
বাংলা একাডেমি
প্রস্তাবিত বাংলা একাডেমি আইন, ২০১১-এর
খসড়া
* * * * *
এতদ্দ্বারা The Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ord. No XIX of 1978) রহিতক্রমে
বাংলা একাডেমি সংক্রান্ত বিধানাবলি সময়োপযোগী করিবার উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রণীত আইন
যেহেতু উনিশ শত বাহান্ন খ্রিষ্টাব্দের রাষ্ট্র ভাষা-আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল হিসাবে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নসাধনকল্পে তেরো শত বাষট্টি বাংলা সনের ষোলোই অগ্রহায়ণ, উনিশ শত পঞ্চান্ন খ্রিষ্টাব্দের তেসরা ডিসেম্বর, শনিবার বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ;
যেহেতু বাংলা একাডেমি ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় স্মারকের মর্যাদা লাভ করিয়াছে এবং যেহেতু ভাষা আন্দোলন হইতে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতিসত্তার সূচনা এবং এদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতার পথে অগ্রযাত্রা সূচিত হয় ;
যেহেতু বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠালগ্ন হইতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখিবার ও উহাকে সমৃদ্ধ হইতে সমৃদ্ধতর করিবার দায়িত্ব নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করিয়া আসিতেছে ;
যেহেতু উপর্যুক্ত পরিপ্রেÿÿতে বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার অবিচ্ছেদ্য প্রতীকে পরিণত হইয়াছে ;
যেহেতু বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গৌরবময় প্রতীক হিসাবে বাংলা একাডেমিকে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসিত ও গণতান্ত্রিক সংস্থায় পরিণত করা প্রয়োজন ;
যেহেতু যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারিত এবং তথ্যপ্রবাহ পূর্বের তুলনায় অবাধ হইবার ফলে প্রকাশনা ও মুদ্রণের ÿÿত্রে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হওয়ায় সর্বসত্মরে বাংলা ভাষা প্রচলন, প্রয়োগ ও ব্যবহারের ÿÿত্রে নতুন পরিস্থিতি উদ্ভূত হইয়াছে এবং যেহেতু যথাযথ পরীÿা ও প্রয়োগের মাধ্যমে উক্ত পরিস্থিতির যথাসম্ভব পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন ; এবং
যেহেতু আমাদের ভাষা আন্দোলন দিবস বিশ্ব সংস্থায় আমত্মর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ করিয়াছে সেহেতু বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিচিতি ব্যাপকতর করা প্রয়োজন এবং যেহেতু বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক যাহাতে সহজে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করিতে পারেন, তাহার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ;
যেহেতু বাংলা ভাষার ক্রমসম্প্রসারণশীল ও ক্রমপরিবর্তনশীল রূপ ও রূপামত্মরকে যথাযথ পর্যবেÿণ ও বিশেস্নষণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা প্রদান করা ও সংরÿণ করা প্রয়োজন এবং যেহেতু একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সকল শাখার যথোপযুক্ত বাহন হিসাবে গড়িয়া তোলা ও ব্যবহার করা প্রয়োজন ;
সেহেতু বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার যথাযথভাবে সংরÿণ করা প্রয়োজন ; এবং
যেহেতু The Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ord. No XIX of 1978) দ্বারা উপর্যুক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ যথোপযুক্তভাবে অর্জন করা সম্ভবপর নহে বিধায় উক্ত Ordinance দ্বারা বাংলা একাডেমি পরিচালিত হওয়া সমীচীন ও অভিপ্রেত নহে ;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল :
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।—
(১) এই আইন ‘বাংলা একাডেমি আইন, ২০১১’ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে বলবৎ হইবে।
২। সংজ্ঞা।—
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে এই আইনে -
(ক) ‘‘একাডেমি’’ অর্থ এই আইনের ৪ ধারার অধীনে ইতঃপূর্বে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি ;
(খ) ‘‘একাডেমির তহবিল’’ অর্থ এই আইনের ৩১ ধারার অধীনে গঠিত একাডেমির তহবিল ;
(গ) ‘‘নির্বাহী পরিষদ’’ অর্থ এই আইনের ২১ ধারার অধীনে গঠিত নির্বাহী পরিষদ ;
(ঘ) ‘‘নির্বাহী পরিষদের সভাপতি’’ অর্থ এই আইনের ৭ ধারার অধীনে উলিস্নখিত নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ;
(ঙ) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইন ও এই আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী জারিকৃত বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এই আইনের ৪০ ধারার অধীনে প্রণীত প্রবিধান ;
(চ) ‘‘ফেলো’’ অর্থ এই আইনের ৮ ধারার অধীন ফেলো ;
(ছ) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের ৩৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রণীত বিধি ;
(জ) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ এই আইনের ২৪ ধারার অধীনে নিযুক্ত একাডেমির মহাপরিচালক ;
(ঝ) ‘‘সাধারণ পরিষদ’’ অর্থ এই আইনের ১৮ ধারার অধীনে গঠিত একাডেমির সাধারণ পরিষদ ;
(ঞ) ‘‘সচিব’’ অর্থ এই আইনের ২৫ ধারার অধীনে নিযুক্ত একাডেমির সচিব ;
(ট) ‘‘সদস্য’’ অর্থ এই আইনের ৯ ধারার অধীন একাডেমির জীবনসদস্য ও সদস্য ;
(ঠ) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ এই আইনের ৬ ধারার অধীনে নিযুক্ত একাডেমির সভাপতি ;
(ড) “Ordinance” অর্থ The Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ord. No XIX of 1978), যাহা P.O. No. 44 of 1972 repeal করিয়া ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ছয়ই জুন তারিখে প্রণীত হইয়া ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের বারোই জুন গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত এবং এই আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী রহিত।
৩। আইনের প্রাধান্য ।—
এতদ্সংক্রামত্ম অন্য যে-কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকিলেও এই আইন প্রাধান্য পাইবে।
৪। একাডেমি প্রতিষ্ঠা।—
(১) এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে ইতঃপূর্বে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি এই আইন বলবৎ হইবার সময় হইতে বহাল ও কার্যকর থাকিবে।
(২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হইবে ; ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও সাধারণ সিলমোহর থাকিবে ; এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে ; এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
(৩) প্রতিষ্ঠিত হইবার সময় হইতে ঢাকায় বর্ধমান হাউস-এর প্রাঙ্গণে অবস্থিত বাংলা একাডেমি উক্ত স্থানে বিদ্যমান থাকিবে।
৫। একাডেমি গঠন।—
একাডেমি নিম্নোক্তদের লইয়া গঠিত হইবে-
(ক) একাডেমির সভাপতি ;
(খ) নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ;
(গ) ফেলো ; এবং
(ঘ) সদস্য।
৬। একাডেমির সভাপতি।—
(১) একাডেমির ফেলোদের মধ্য হইতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক একাডেমির সভাপতি নিযুক্ত হইবেন ;
শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের নাগরিক নহেন, এমন কোনো ব্যক্তি ফেলো হওয়া সত্ত্বেও সভাপতি নিযুক্ত হইতে পারিবেন না ;
আরো শর্ত থাকে যে, বাংলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফেলো হওয়া সত্ত্বেও একাডেমিতে চাকুরিরত অবস্থায় সভাপতি নিযুক্ত হইতে পারিবেন না ;
আরো শর্ত থাকে যে, কোনো ফেলো দুই বারের অধিক সভাপতি নিযুক্ত হইতে পারিবেন না।
(২) সভাপতি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বৎসরের মেয়াদে তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৩) সভাপতি যে-কোনো সময় রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দ্বারা স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৪) এই আইন লঙ্ঘন, বা, গুরম্নতর অসদাচরণ ব্যতিরেকে সভাপতিকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না। সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য লিখিতভাবে নির্বাহী পরিষদের সভাপতির নিকট একাডেমির সভাপতির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করিলে নির্বাহী পরিষদের সভাপতি, উক্তরূপ অনাস্থা প্রদর্শিত হইবার পরে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করিবেন। রাষ্ট্রপতি স্বীয় বিবেচনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৫) কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হইলে শূন্য পদ (১) উপধারার বিধান অনুযায়ী যথাসম্ভব শীঘ্র পূরণ করিতে হইবে।
(৬) সভাপতি একাডেমির বার্ষিক সাধারণ সভা, প্রতিষ্ঠা-বার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠান, অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন-অনুষ্ঠান ও সমাপনী-অনুষ্ঠান, একাডেমি কর্তৃক প্রবর্তিত পুরস্কার প্রদত্ত হইবার অনুষ্ঠান, আমত্মর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান এবং নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক স্থিরীকৃত একাডেমির অন্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবেন ;
শর্ত থাকে যে, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে সভাপতি অনুপস্থিত থাকিলে, বা, তিনি কোনো কারণে তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে মহাপরিচালক নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে একজন ফেলোকে উক্তরূপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন।
৭। নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।—
মহাপরিচালক নির্বাহী পরিষদের সভাপতি হইবেন।
৮। ফেলো।—
(১) বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে একাডেমির ফেলো হইবেন।
(২) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি বা জ্ঞানচর্চার অন্য কোনো ÿÿত্রে গুরম্নত্বপূর্ণ মৌলিক অবদানের জন্য যে কাহাকেও বিধি ও/বা প্রবিধান অনুযায়ী, কিংবা, বিধি ও/বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যমত্ম, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্ম দ্বারা সাম্মানিক ফেলো করা যাইবে।
(৩) (২) উপধারার শর্ত পূরণ না করিলে কোনো ব্যক্তি সাম্মানিক ফেলো হইতে, বা, থাকিতে পারিবেন না।
(৪) কাহাকেও মরণোত্তর ফেলো করা যাইবে না।
(৫) বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী কোনো ব্যক্তি ফেলো হইতে বা থাকিতে পারিবেন না ;
শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কিনা, তাহা ৫জন ফেলো দ্বারা গঠিত কমিটি দলিলপত্রের ও/বা, প্রয়োজনবোধে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করিবেন ;
আরো শর্ত থাকে যে, কমিটির উক্তরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাহী পরিষদে আপিল করা যাইবে এবং এ বিষয়ে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৬) একাডেমির কোনো ফেলো সভাপতি নির্বাচিত হইলে, যতদিন পর্যন্ত তিনি সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন, ততদিন পর্যন্ত ফেলো হিসাবে তাহার ভোটাধিকার স্থগিত থাকিবে।
(৭) এক খ্রিষ্টীয় বৎসরে (জানুয়ারি হইতে ডিসেম্বর) সর্বমোট সাত জনের বেশি ব্যক্তিকে সাম্মানিক ফেলো করা যাইবে না।
(৮) একাডেমির ফেলো মহাপরিচালকের নিকট লিখিত পত্রদ্বারা পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
৯। জীবনসদস্য ও সদস্য।—
(১) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান অথবা জ্ঞানের বিশেষ ÿÿত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখিয়াছেন, ন্যূনপÿÿ তিরিশ বৎসর বয়স্ক বাংলাদেশের এইরূপ নাগরিক, বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, একাডেমির জীবনসদস্য ও সদস্য হইবার যোগ্য বিবেচিত হইবেন ;
(২) (১) উপধারার শর্তসমূহ পূরণ না করিলে কোনো ব্যক্তি সদস্য হইতে বা থাকিতে পারিবেন না।
(৩) কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ যোগ্যতা আছে কিনা, তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালককে সাহায্য করিবার জন্য মহাপরিচালক অনধিক পাঁচজন ফেলোকে লইয়া কমিটি গঠন করিতে পারিবেন ;
শর্ত থাকে যে, এই কমিটির ন্যূনপÿÿ একজন সদস্য মহিলা হইবেন।
The Bangla Academy Ordinance, 1978 (Ord. No XIX of 1978)- এর বা, তৎপূর্ববর্তী কোনো আইন, অধ্যাদেশ বা আদেশের বিধি-বিধান বলে একাডেমির জীবনসদস্য বা সদস্য পদের বিষয়ে একাডেমি পরীÿা-নিরীÿা করিয়া সদস্যপদ অব্যাহত রাখা ও বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৪) এক খ্রিষ্টীয় বৎসরে (জানুয়ারি হইতে ডিসেম্বর) সর্বমোট একুশ জনের বেশি ব্যক্তিকে সদস্য করা যাইবে না ;
শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন খ্রিষ্টীয় বৎসরে (জানুয়ারি হইতে ডিসেম্বর) সদস্যের সংখ্যা, উক্ত তিন বৎসর কাল শুরম্ন হইবার পূর্বে সদস্যের মোট সংখ্যা যাহা ছিল, তাহা হইতে পাঁচ শতাংশের অধিক বৃদ্ধি করা যাইবে না।
(৫) বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-বিরোধী, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী কোনো ব্যক্তি সদস্য হইতে বা থাকিতে পারিবেন না ;
শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-বিরোধী বা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কিনা, সে বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য নির্বাহী পরিষদ অনধিক পাঁচ জন ফেলোকে লইয়া কমিটি গঠন করিবে ;
শর্ত থাকে যে, এই কমিটির ন্যূনপÿÿ একজন সদস্য মহিলা হইবেন ;
আরো শর্ত থাকে যে, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি উক্ত কমিটির সভাপতি বা সদস্য হইতে পারিবেন না।
আরো শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাহী পরিষদে আপিল করা যাইবে এবং এ বিষয়ে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৬) একাডেমির সদস্য মহাপরিচালকের নিকট লিখিত পত্রদ্বারা পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৭) কোনো সদস্যের সদস্যপদ কোনো কারণে বাতিল হইয়া গেলে, কিংবা, তিনি সদস্যপদ হইতে পদত্যাগ করিলে তিনি পুনর্বার সদস্য হইতে পারিবেন না।
১০। সদস্যপদ বাতিল।—
ফৌজদারি আইনে কমপÿÿ ছয়মাস বা তদূর্ধ শাসিত্ম হলে সদস্যপদ বাতিল হইবে। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও বাংলা একাডেমির স্বার্থের, ও/বা, আদর্শের পরিপন্থি কোনো কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য বাংলা একাডেমি সদস্যপদ বাতিল করিতে পারিবে। সদস্যপদ প্রাপ্তির নীতিমালায় বর্ণিত যোগ্যতার সঙ্গে কোনো সদস্যের যোগ্যতায় অসঙ্গতি দেখা গেলে নির্বাহী পরিষদ সংশিস্নষ্ট সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করিতে পারিবে। এ-ব্যাপারে কোনো আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না।
১১। একাডেমির কার্যাবলি।—
একাডেমির কার্যাবলি হইবে :
(১) বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও প্রমিতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য রোধ করা ;
(২) বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিসাধনকল্পে উন্নতমানের গবেষণা এবং সৃষ্টিশীল ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ এবং প্রকল্প গ্রহণ করা ;
(৩) দ্রুত পরিবর্তনশীল ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া এবং একই সঙ্গে, বাংলা ভাষার গৌরবময় ঐতিহ্য সমুন্নত রাখিয়া জীবনের সর্বস্তরে এবং জ্ঞানচর্চার সর্বÿÿত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন, ব্যবহার ও বিকাশের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ ও সহায়তা প্রদান করা, এবং এই উদ্দেশ্যে পরিভাষা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ;
(৪) বাংলা ভাষার প্রামাণ্য অভিধান, পরিভাষা ও ব্যাকরণ রচনা এবং বাংলা ভাষায় বিশ্বকোষ প্রকাশ করা ;
(৫) বাংলা শব্দের প্রমিত বানান ও উচ্চারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ;
(৬) বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্যকরূপে অনুধাবনের সুবিধার্থে বাংলা ভাষার সহিত সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য ভাষা চর্চার এবং উক্তরূপ ভাষা ও উক্তরূপ ভাষায় লিখিত সাহিত্য বিষয়ে গবেষণার ব্যবস্থা করা ;
(৭) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার ব্যাপকতর ও সমৃদ্ধতর করার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ;
(৮) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিবর্তন ও উহার ইতিহাস রচনা বিষয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাহিরে কোনো উল্লেখযোগ্য কর্ম সম্পাদিত হইয়া থাকিলে তাহার সহিত পরিচয়ের ও, প্রয়োজনবোধে, সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা ;
(৯) বাংলা ভাষায় উচ্চতর পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক রচনা করা ও জ্ঞানচর্চায় সহায়তা প্রদান করা ;
(১০) উপর্যুক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের উদ্দেশ্যে গবেষণা, অনুবাদ ও অন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ;
(১১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা বহির্বিশ্বে প্রচার ও পরিচিত করার জন্য বিদেশে সেমিনার ও বইমেলার আয়োজন করা, এবং বিভিন্ন দেশে বাঙালি অভিবাসী এবং তাদের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা ভাষা সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সংযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা ;
(১২) বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরÿণে সহায়তা করা এবং তাদের জীবন ও সংস্কৃতি বিষয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করা ;
(১৩) ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অধিকতর অবদান রাখিতে পারিবেন, এইরূপ ব্যক্তিবর্গ যাহাতে উক্তরূপ অবদান রাখিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সময়ব্যাপী আসন (চেয়ার) প্রতিষ্ঠা করা ;
(১৪) বিদেশিদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে জ্ঞান লাভের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সাহিত্যকর্মের অনুবাদসহ বিদেশে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজন করা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অমত্মর্ভুক্ত করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে বিদেশের উৎসাহী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করা ;
(১৫) ইতঃপূর্বে একাডেমি কর্তৃক প্রবর্তিত সাহিত্য পুরস্কার অব্যাহত রাখা, এবং বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আমত্মর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করা ;
(১৬) বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে এবং বাংলাদেশ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রন্থাগার স্থাপন ;
(১৭) দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নবায়ন ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহ, সংরÿণ, অধ্যয়ন ও গবেষণা জোরদার করা ; এবং
(১৮) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্য যে-কোনো কার্য সম্পাদন করা ;
শর্ত থাকে যে, উপর্যুক্ত কার্যাবলির যে-কোনো কার্য সম্পাদনের জন্য যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবা স্বীকৃত একাডেমিক বা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ও/বা সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে একাডেমি, নির্বাহী পরিষদের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্তরূপ সাহায্য ও/বা সহযোগিতা গ্রহণ করিতে পারিবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা একাডেমিক বা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা একাডেমিক বা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সাহায্য ও/বা সহযোগিতা গ্রহণ করিবার পূর্বে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হইবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গৌরবময় প্রতীক হিসাবে একাডেমির মর্যাদার সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নহে, এমন কোনো কার্য একাডেমি সম্পাদন, পরিচালনা, বাস্তবায়ন বা তত্ত্বাবধান করিবে না ;
আরো শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীনে গঠিত নির্বাহী পরিষদের বিবেচনায় একাডেমি ইতঃপূর্বে এমন কোনো কার্য সম্পাদন, পরিচালনা, বাসত্মবায়ন বা তত্ত্বাবধান করিয়া থাকিলেও যাহা জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গৌরবময় প্রতীক হিসাবে একাডেমির মর্যাদার সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নহে, নির্বাহী পরিষদ তাহা নিষ্পত্তি করিবার জন্য যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
১২। ভাষার ক্ষেত্রে একাডেমির বিশেষ দায়িত্ব।—
(১) বাংলা ভাষা প্রমিতকরণ, অভিধান প্রণয়ন ও তাহার উৎকর্ষ সাধনের জন্য একাডেমি মুখ্য প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) বাংলা ভাষার ব্যবহার সহজতর, ব্যাপকতর ও উন্নততর করিবার উদ্দেশ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও/বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো সংযোজন ও/বা পরিবর্তন করিবার প্রয়োজন দেখা দিলে উক্তরূপ সংযোজন ও/বা পরিবর্তন করিবার জন্য বাংলা একাডেমির পরামর্শ গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারের ÿÿত্রে সরকার প্রয়োজনবোধে তাহার কর্মকর্তাদের প্রশিÿণ প্রদানের জন্য একাডেমিকে অনুরোধ করিতে পারিবে এবং অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে একাডেমি উপর্যুক্তরূপ প্রশিÿণের ব্যবস্থা করিবে।
১৩। গুরম্নত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজে বিশেষজ্ঞের সহায়তা গ্রহণ।—
কোনো একাডেমিক কাজ বিশেষ গুরম্নত্বপূর্ণ বা জরম্নরি বিবেচিত হইলে, নির্বাহী পরিষদের অনুুমোদনক্রমে সংশিস্নষ্ট ÿÿত্রে বিশেষজ্ঞরূপে স্বীকৃত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মহাপরিচালক আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবেন এবং যথোপযুক্ত পরামর্শক ফি প্রদান করিতে পারিবেন।
১৪। চুক্তিভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ।—
বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে ;
তবে শর্ত থাকে যে, চুক্তির মেয়াদ হইবে দুই বৎসর, এবং দুই বারের বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা যাইবে না।
১৫। বিদেশি লেখক ও গবেষকদের আমন্ত্রণ জ্ঞাপন।—
কোনো বিশেষ একাডেমিক কাজে, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্ম দ্বারা সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, একাডেমি বিদেশের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষকদের বাংলাদেশে আগমনের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
১৬। চেয়ার প্রতিষ্ঠা।—
উপরের ১১(১৩) ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমি বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা, কিংবা, উক্তরূপ বিধি ও/বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যমত্ম নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্মক্রমে বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চার ÿÿত্রে চেয়ার প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
১৭। পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান।—
(১) বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য একাডেমি, বিধি ও/বা প্রবিধান অনুযায়ী, কিংবা, উক্ত বিধি ও/বা প্রবিধান জারি না হওয়া পর্যন্ত, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরস্কার অথবা সম্মাননা প্রদান করিতে পারিবে।
(২) একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিধি অনুযায়ী, কিংবা, উক্তরূপ বিধি জারি না হওয়া পর্যমত্ম, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্ম দ্বারা বাংলাদেশের নাগরিক নহেন, এইরূপ ব্যক্তিদের আমত্মর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবে।
১৮। একাডেমির সাধারণ পরিষদ।—
(১) একাডেমির একটি সাধারণ পরিষদ থাকিবে।
(২) সাধারণ পরিষদ নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের লইয়া গঠিত হইবে :
(ক) একাডেমির সভাপতি ;
(খ) নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ;
(গ) ফেলোগণ ;
(ঘ) জীবনসদস্য ও সদস্যগণ।
১৯। সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব।—
(১) এই আইন ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও/বা প্রবিধান সাপেক্ষে একাডেমির সর্বময় কর্তৃত্ব সাধারণ পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) সাধারণ পরিষদ এই আইন ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও/বা প্রবিধান সংশোধনের প্রস্তাব করিতে পারিবে।
(৩) সাধারণ পরিষদ একাডেমির কার্যাবলি পর্যালোচনা করিবে ও প্রয়োজনমতো নির্বাহী পরিষদকে দিক্-নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(৪) সাধারণ পরিষদ এই আইন ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও/বা প্রবিধান অনুযায়ী নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করিবে।
২০। সাধারণ পরিষদের সভা।—
(১) সাধারণ পরিষদ প্রতি বৎসর একবার সাধারণ সভায় মিলিত হইবে।
(২) সাধারণ পরিষদের সভা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হইবে এবং নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে মহাপরিচালক সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিবেন।
(৩) সাধারণ পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের জন্য ন্যূনপÿÿ ত্রিশ দিনের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করিতে হইবে এবং সভার কোরামের জন্য সাধারণ পরিষদের ন্যূনপÿÿ এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে ;
শর্ত থাকে যে, সাধারণ পরিষদের সাধারণ সভা ও তলবি সভা ব্যতিরেকে অন্য সভা অনুষ্ঠানের জন্য ন্যূনপÿÿ পনের দিনের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করিতে হইবে এবং তলবি সভা ব্যতিরেকে অন্য সভার কোরামের জন্য সাধারণ পরিষদের অন্যূন এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, কোরামের অভাবে তলবি সভা ব্যতিরেকে অন্য কোনো সভা মুলতবি করা হইলে মুলতবি সভা অনুষ্ঠানের জন্য কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৪) তলবি সভা ব্যতিরেকে সাধারণ পরিষদের সাধারণ ও উল্লিখিত অন্য সভার বিবেচ্য বিষয় মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে, নির্ধারণ করিবেন।
(৫) সাধারণ পরিষদের ন্যূনপÿÿ এক-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি কোনো বিষয় বিবেচনার উদ্দেশ্যে তলবি সভা আহবান করিবার জন্য মহাপরিচালককে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান, তাহা হইলে নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে মহাপরিচালক, উক্ত অনুরোধ প্রাপ্ত হইবার অনূর্ধ্ব পনের কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণ পরিষদের তলবি সভা আহবান করিবেন এবং উহার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রদান করিবেন ;
শর্ত থাকে যে, উক্ত অনুরোধে বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত বিবরণ থাকিতে হইবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, মহাপরিচালক তলবি সভার বিজ্ঞপ্তির সহিত সভার বিবেচ্য বিষয় সংযুক্ত করিবেন ;
আরো শর্ত থাকে যে, মহাপরিচালক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্তরূপ তলবি সভা আহবান করিতে ব্যর্থ হইলে উক্তরূপ তলবি সভা অনুষ্ঠানের জন্য অনুরোধজ্ঞাপনকারী সাধারণ পরিষদ-সদস্যগণ উক্তরূপ তলবি সভা অনুষ্ঠান করিতে পারিবেন ;
আরো শর্ত থাকে যে, উলিস্নখিত পনের কার্যদিবস অতিক্রামত্ম হইবার অব্যবহিত পরবর্তী পনের কার্যদিবসের মধ্যে অনুরোধ জ্ঞাপনকারী সদস্যগণ-আহূত উলিস্নখিত তলবি সভা অনুষ্ঠিত হইতে হইবে এবং উহা উক্ত সময়সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত না হইলে তলবি সভা অনুষ্ঠানের জন্য অনুরোধ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, তলবি সভায় কোরামের জন্য সাধারণ পরিষদের অন্যূন অর্ধেক সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে এবং উক্ত সভা মুলতবি করা যাইবে না।
(৬) সাধারণ পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি অতিরিক্ত নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
২১। নির্বাহী পরিষদ ।—
(১) একাডেমির একটি নির্বাহী পরিষদ থাকিবে এবং তাহা, এই আইনের ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও/বা প্রবিধান সাপেক্ষে, সাধারণ পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবে।
(২) নির্বাহী পরিষদের পদাধিকার বলে যাহারা সদস্য তাহারা ব্যতীত অন্যান্য সদস্যদের মেয়াদকাল হইবে তিন বৎসর।
(৩) নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও নিম্নোক্ত সদস্যদের সমন্বয়ে নির্বাহী পরিষদ গঠিত হইবে :
এক।
ক) ফেলোগণ কর্তৃক নির্বাচিত চারজন ফেলো ;
খ) মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের মধ্য হইতে সাধারণ পরিষদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য ;
গ) সাধারণ পরিষদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত চারজন, কিংবা উপরের (খ) বিভাগে কোনো প্রার্থী না থাকিলে, পাঁচজন সদস্য ;
শর্ত থাকে যে,
(১) উপরের উপরের (ক) ও (গ) বিভাগ থেকে ন্যূনপÿÿ একজন করিয়া মহিলা সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে ;
(২) কোনো ফেলো, বা, সদস্য দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচিত হইতে পারিবেন না ;
(৩) কোনো ফেলো, বা, সদস্য কোনো রাজনৈতিক, বা, ধর্মীয় দলের, বা, গোষ্ঠীর মনোনীত, বা, সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রার্থী হইতে পারিবেন না ;
(৪) কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্য হইতে, বা, থাকিতে পারিবেন না ;
(৫) বাংলাদেশের নাগরিক নহেন, এমন কোনো ব্যক্তি নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হইতে পারিবেন না ;
(৬) একাডেমিতে চাকুরিরত কোনো ব্যক্তি, একাডেমির ফেলো বা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হইতে, কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাইতে পারিবেন না ;
(৭) (৩) ও (৬) উপধারার বিধান কোনো ফেলো বা সদস্য ভঙ্গ করিলে যথাক্রমে তাহার ফেলো বা সদস্যপদ বাতিল হইবে, এবং, একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ÿÿত্রে, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের দায়ে দায়ী হইবে ;
(৮) নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ শেষ হইলে অবশিষ্ট সদস্যদের দ্বারা নির্বাহী পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকিবে ;
(৯) নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ হইতে আরম্ভ হইবে ;
(১০) নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত ফেলো বা সদস্য কোনো কারণে যথাক্রমে একাডেমির ফেলো বা সদস্য না থাকিলে নির্বাহী পরিষদে তাহার আসন শূন্য হইবে ;
ব্যাখ্যা : মুক্তিযোদ্ধা বলিতে সরকার স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে বুঝাইবে।
দুই। যে-কোনো চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান/জীববিজ্ঞান/প্রযুক্তিবিজ্ঞান অনুষদ ও চারুকলা অনুষদ হইতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত একজন করিয়া সর্বমোট চারজন প্রফেসর ;
তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের মধ্যে অমত্মত একজন বাংলা বিভাগের প্রধান/জ্যেষ্ঠ হইবেন।
তিন। একাডেমির অব্যবহিত পূর্ববর্তী মহাপরিচালক, কিংবা, তিনি জীবিত না থাকিলে, বা, তাঁহাকে পাওয়া না গেলে তাহার পূর্ববর্তী মহাপরিচালকদের মধ্য হইতে নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত একজন প্রাক্তন মহাপরিচালক ;
চার। একাডেমির সভাপতি কর্তৃক মনোনীত একজন বিশিষ্ট ভাষাবিশেষজ্ঞ বা ভাষাবিজ্ঞানী ;
পাঁচ। সরকারের নিকট হইতে মঞ্জুরি, অনুদান ও থোক বরাদ্দ লাভের উদ্দেশ্যে একাডেমি যে মন্ত্রণালয়ের নিকট তাহার বাজেট পেশ করিবে অথবা তাহার প্রয়োজন জ্ঞাপন করিবে, উক্ত মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন করিয়া প্রতিনিধি, যাহাদের পদমর্যাদা যুগ্মসচিবের নিচে হইবে না ;
শর্ত থাকে যে, ২১(৩)(চার) উপধারায় ভাষাবিশেষজ্ঞ বা ভাষাবিজ্ঞানী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন বা আছেন, এইরূপ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার প্রদান করা যাইতে পারে ;
আরো শর্ত থাকে যে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নির্বাহী পরিষদে উপর্যুক্ত কোনো উপধারার অধীনে মনোনীত হইতে পারিবেন না।
(৪) নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ নির্বাহী পরিষদের সভাপতির নিকট লিখিত পত্রদ্বারা নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) পদত্যাগ, বা, অন্য কোনো কারণে নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদ-সদস্যের পদ শূন্য হইলে উক্ত পদ শূন্য হইবার নববই দিনের মধ্যে উক্ত পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে ;
শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ নির্বাচিত সদস্যের পদের মেয়াদ শূন্য পদের মেয়াদের অবশিষ্ট কাল পর্যন্ত বজায় থাকিবে ;
আরো শর্ত থাকে যে, শূন্য পদের অবশিষ্ট মেয়াদ যদি নববই দিন, বা, তাহার কম হয়, তাহা হইলে শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে না ;
(৬) কোনো সদস্য নির্বাচিত, বা, মনোনীত না হইবার কারণে নির্বাহী পরিষদের গঠন অসম্পূর্ণ বিবেচিত হইবে না এবং নির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা থাকিবে না।
(৭) নির্বাহী পরিষদের সকল নির্বাচিত সদস্যের পদ একযোগে শূন্য হইলে উক্ত পদসমূহ শূন্য হইবার নববই দিনের মধ্যে উহা পূরণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(৮) নির্বাহী পরিষদের সভাপতির ও নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের প্রত্যেকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি অতিরিক্ত নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
(৯) নির্বাহী পরিষদের সদস্য একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক এবং নির্বাহী পরিষদের মনোনীত সদস্যগণ সাধারণ পরিষদের সদস্য না হইয়া থাকিলে তাহারা যতদিন নির্বাহী পরিষদের সদস্য থাকিবেন, ততদিনের জন্য সাধারণ পরিষদের সদস্য বলিয়া গণ্য হইবেন।
২২। নির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব।—
(ক) এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে নির্বাহী পরিষদ মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করিবে ;
(খ) একাডেমির লÿ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ করিবে ;
(গ) একাডেমির কার্যাবলি এবং অর্থ সংক্রামত্ম বিষয়াদি পরিচালনার বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিবে ;
(ঘ) একাডেমীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং ইহার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করিবার লÿÿ সরকারের অনুমোদন সাপেÿÿ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে ;
(ঙ) একাডেমির নিজস্ব অর্থায়নে ÿÿত্রবিশেষে কর্মকান্ড পরিচালনা এবং তদুদ্দেশ্যে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা এবং তাহা ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান করিবে ;
(চ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি সংক্রামত্ম বিষয়ে প্রশিÿণের ব্যবস্থা গ্রহণ; কর্মকর্তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময় সংক্রামত্ম চুক্তি এবং বিদেশি সংস্থার সঙ্গে স্কোলার একচেঞ্জ প্রোগ্রাম গ্রহণ ও/বা বিশেষ কোনো কর্মকান্ড সম্পাদনের জন্য চুক্তি অনুমোদন করিবে ;
(ছ) সাধারণ পরিষদ নির্বাহী পরিষদকে কোনো বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করিলে উক্ত দায়িত্ব পালন করিবে ;
(জ) সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবে।
২৩। নির্বাহী পরিষদের সভা।—
(১) নির্বাহী পরিষদের সভাপতির অনুমোদনক্রমে সচিব নির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করিবেন ;
শর্ত থাকে যে, বছরে নির্বাহী পরিষদের ন্যূনপÿÿ চারটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
(২) নির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করিবার জন্য ন্যূনপক্ষে পাঁচ দিনের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করিতে হইবে ;
শর্ত থাকে যে, নির্বাহী পরিষদের সভাপতির বিবেচনায় জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে তিন দিনের কম সময়ের বিজ্ঞপ্তিতেও নির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা যাইবে।
২৪। মহাপরিচালক।—
(১) একাডেমির একজন মহাপরিচালক থাকিবেন এবং তিনি একাডেমির প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) বাংলা একাডেমির ফেলোদের মধ্য হইতে, কিংবা, তাহা সম্ভবপর না হইলে, প্রথিতযশা শিÿাবিদ বা গবেষকদের মধ্য হইতে যোগদানের তারিখ হইতে তিন বৎসর মেয়াদের জন্য সরকার মহাপরিচালক নিযুক্ত করিবে ;
শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের নাগরিক নহেন, এমন কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালক নিযুক্ত হইতে পারিবেন না ;
আরো শর্ত থাকে যে, মহাপরিচালক কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকিতে পারিবেন না ;
আরো শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক সময়ের জন্য মহাপরিচালক পদে নিয়োগ লাভের অধিকারী হইবেন না ;
আরো শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি পর-পর দুই বার মহাপরিচালক নিযুক্ত হন, তাহা হইলে মহাপরিচালক হিসাবে তাহার কার্যকালের মেয়াদ সর্বমোট পাঁচ বৎসরের অধিক হইবে না ;
(৩) একাডেমির কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে কেহ মহাপরিচালক নিযুক্ত হইলে, মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অবসান ঘটিলে তিনি পূর্বপদে ফিরিয়া যাইতে, কিংবা, একাডেমির অন্য কোনো পদে পুনর্নিযুক্ত হইতে পারিবেন না।
(৪) মহাপরিচালক—
(ক) একাডেমির কার্যাবলি সম্পাদিত হইবার জন্য দায়ী থাকিবেন ;
(খ) একাডেমির বিভাগসমূহ ও সচিবের দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করিবেন ;
(গ) উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি ও সার্বিক প্রশাসন তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করিবেন ;
(ঘ) এই আইনের ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও প্রবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করিবেন ;
(ঙ) নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিবেন ;
(চ) নির্বাহী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন ;
(ছ) প্রতি অর্থ-বৎসরে একাডেমির কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করিবেন এবং নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনের জন্য উহা উপস্থাপন করিবেন ;
(জ) একাডেমির কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে সাধারণ পরিষদের সাধারণ সভায় উপস্থাপন করিবেন।
(৫) সাধারণ পরিষদ, কিংবা, নির্বাহী পরিষদ মহাপরিচালককে কোনো বিশেষ দায়িত্ব প্রদান বা অর্পণ করিলে মহাপরিচালক উক্ত দায়িত্ব পালন করিবেন ।
(৬) মহাপরিচালক একাডেমির কার্যাবলি এবং নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্মসমূহ সভাপতিকে নিয়মিত অবহিত রাখিবেন।
(৭) (ক) নির্বাহী পরিষদের সকল নির্বাচিত সদস্য একযোগে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে সভাপতির নিকট লিখিতভাবে এই আইন লঙ্ঘন, বা, গুরুতর অনিয়ম, বা, অসদাচরণের অভিযোগ আনয়ন করিতে পারিবেন এবং তাহা করা হইলে সভাপতি তদন্তের উদ্দেশ্যে তাহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(খ) সরকার উক্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করিতে, ও, অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, মহাপরিচালককে, তাহার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বেই, অপসারণ করিতে এবং তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে ;
(৮) মহাপরিচালক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট লিখিত পত্রদ্বারা পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৯) কোনো কারণে মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে শূন্য পদ (২) উপধারার বিধান অনুযায়ী যথাসম্ভব শীঘ্র পূরণ করিতে হইবে।
(১০) একাডেমির কোনো ফেলো বা সদস্য মহাপরিচালক নিযুক্ত হইলে, যতদিন পর্যন্ত তিনি মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন, ততদিন পর্যন্ত ফেলো বা সদস্য হিসাবে তাহার ভোটাধিকার স্থগিত থাকিবে।
(১১) মহাপরিচালকের পদ শূন্য থাকিলে, কিংবা, মহাপরিচালক অনুপস্থিত থাকিলে, কিংবা, মহাপরিচালক কোনো কারণে তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে সচিব, নতুন মহাপরিচালক নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা মহাপরিচালক প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত, কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় তাহার দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে, নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
ব্যাখ্যা : উপর্যুক্ত উপধারায় সচিব বলিতে অস্থায়ী সচিবও বুঝাইবে।
২৫। সচিব।—
(১) একাডেমির একজন সচিব থাকিবেন।
(২) একাডেমিতে ন্যূনপক্ষে বিশ বৎসরের চাকুরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হইতে বা বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হইতে প্রশাসন বিষয়ে বা অর্থ-ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একাডেমির পরিচালকবৃন্দের মধ্য হইতে যথাসম্ভব জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে, কিংবা, তাহা সম্ভবপর না হইলে, উপসচিব পদের নিচের পদমর্যাদাসম্পন্ন নহেন, এইরূপ কর্মকর্তাকে সরকার তিন বৎসর মেয়াদে একাডেমির সচিব নিযুক্ত করিবে ;
শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি সচিব পদে দুই মেয়াদের বেশি নিযুক্ত হইতে পারিবেন না ;
(৩) একাডেমির সচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও, সচিব সাধারণ পরিষদের ও নির্বাহী পরিষদের সচিবের, এবং সাধারণ পরিষদ কিংবা নির্বাহী পরিষদ যদি তাহাকে যথাক্রমে সাধারণ পরিষদ কিংবা নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক গঠিত কোনো কমিটির সচিব নিযুক্ত করে, তাহা হইলে তিনি উক্ত কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) সাধারণ পরিষদ, কিংবা, নির্বাহী পরিষদ যদি সচিবকে কোনো বিশেষ দায়িত্ব প্রদান বা অর্পণ করে, তাহা হইলে সচিব উক্ত দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৫) সচিব যদি একাডেমির ফেলো কিংবা সদস্য হন, তাহা হইলে সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হইতে পারিবেন না, এবং সচিব কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাইতে পারিবেন না।
(৬) মহাপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশক্রমে সচিব একাডেমির সার্বিক প্রশাসন, অর্থ ও আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং উন্নয়ন ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত কার্যাদি সম্পাদন ও তাহার সমন্বয় সাধন করিবেন।
(৭) মহাপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশক্রমে সচিব একাডেমির বাজেট ও আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্ত্তত করিবেন ও তাহা অনুমোদনের জন্য নির্বাহী পরিষদের সভায় এবং অবহিতকরণের জন্য সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন।
(৮) সচিব বিধি ও/বা প্রবিধান অনুযায়ী একাডেমির বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন নির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যদি কোনো আপত্তি থাকে তাহা হইলে উক্ত আপত্তি নিষ্পন্ন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থাদি লিখিতভাবে সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন।
(৯) সরকার যদি একাডেমিকে কোনো বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান করিতে অনুরোধ করে, তাহা হইলে সচিব উক্ত প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করিবেন, মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে তাহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদন বিষয়ে নির্বাহী পরিষদকে অবহিত রাখিবেন।
(১০) সচিব বিধি অনুযায়ী, কিংবা, বিধি জারি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১১) সচিবের বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের নিকট লিখিতভাবে এই আইন লঙ্ঘন, বা, গুরুতর অনিয়ম, বা, অসদাচরণের অভিযোগ আনীত হইলে মহাপরিচালক উক্ত অভিযোগ বিষয়ে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(১২) সচিবের পদ শূন্য হইলে, বা তিনি অনুপস্থিত থাকিলে, বা তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে সচিবের পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা সচিব পুনরায় তাহার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সর্বজ্যেষ্ঠ পরিচালক, কিংবা, তাহাকে পাওয়া না গেলে, পর্যায়ক্রমে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ পরিচালক, তাহার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে, অস্থায়ীভাবে সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন ;
শর্ত থাকে যে, নির্বাহী পরিষদের পূর্বানুমোদনক্রমে মহাপরিচালক প্রয়োজনবোধে যে-কোনো পরিচালককে সচিবের অস্থায়ী দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন ;
আরো শর্ত থাকে যে, প্রাতিষ্ঠানিক, পরিকল্পনা ও প্রশিÿণ বিভাগের পরিচালককে সচিবের অস্থায়ী দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না।
ব্যাখ্যা : অস্থায়ীভাবে সচিবের দায়িত্ব পালনের ÿÿত্রে পরিচালক বলিতে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, বা, চলতি দায়িত্বে নিযুক্ত পরিচালক বুঝাইবে না।
২৬। একাডেমির বিভাগ ও পদ।—
(১) একাডেমিতে নিম্নলিখিত বিভাগ থাকিবে :
(ক) অভিধান, বিশ্বকোষ, ভাষা ও পরিভাষা বিভাগ ;
(খ) অনুবাদ ও আমত্মর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ;
(গ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ;
(ঘ) সংস্কৃতি-অধ্যয়ন ও ফোকলোর বিভাগ ;
(ঙ) সংকলন, পত্রিকা ও অনুষ্ঠান বিভাগ ;
(চ) বাংলাদেশচর্চা, ইতিহাস ও পাঠ্যপুসত্মক বিভাগ ;
(ছ) গ্রন্থাগার, আর্কাইভ্স ও জাদুঘর বিভাগ ;
(জ) প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিভাগ ;
(২) সচিবের একটি দপ্তর থাকিবে এবং উক্ত দপ্তরে পরিষদ উপবিভাগ, বিক্রয় ও বিপণন উপবিভাগ, হিসাবরÿণ ও বাজেট উপবিভাগ এবং বাংলা একাডেমি প্রেস অমত্মর্ভুক্ত হইবে।
(৩) মহাপরিচালকের দপ্তরে জনসংযোগ উপবিভাগ থাকিবে।
(৪) প্রয়োজনবোধে নির্বাহী পরিষদ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে (১) উপধারায় উলিস্নখিত বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগ গঠন এবং বিভাগসমূহের পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে।
(৫) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নির্বাহী পরিষদ একাডেমির সকল পদ এবং সাংগঠনিক কাঠামো স্থির করিবে।
(৬) পরিচালক বিভাগের প্রধান হইবেন।
২৭। কেন্দ্র ও ইন্সটিটিউট স্থাপন।—
জ্ঞানের কোনো বিশেষ শাখায় উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, একাডেমি উহার নিয়ন্ত্রণাধীন উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র ও ইন্সটিটিউট স্থাপন করিতে পারিবে।
২৮। মুদ্রণালয়।—
একাডেমির একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মুদ্রণালয় থাকিবে এবং তাহা, বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পরিচালিত হইবে।
২৯। একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারী।—
(১) একাডেমির কর্মকর্তাগণের ÿÿত্রে মহাপরিচালক এবং কর্মচারিগণের ÿÿত্রে সচিব নিয়োগকারী কর্তৃপÿ হইবেন।
(২) একাডেমিতে কর্মকর্তা হিসাবে নিযুক্ত হইতে, বা, বহাল থাকিতে গেলে সংশিস্নষ্ট পদের জন্য বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা থাকিতে হইবে।
(৩) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরি এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা এবং উক্তরূপ বিধি ও/বা প্রবিধান জারি না হওয়া পর্যমত্ম, নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্ম দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(৪) একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারী একাডেমির সার্বÿণিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং, নিয়োগকারী কর্তৃপÿÿর পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, একাডেমি কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত দায়িত্ব ছাড়া অন্য কোনো অর্থকরী দায়িত্ব পালন কিংবা কর্ম সম্পাদন করিতে পারিবেন না, বা, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, বা, স্বনিযুক্ত থাকিতে পারিবেন না ;
শর্ত থাকে যে, রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারে অংশগ্রহণ এবং সাময়িকপত্রে ও সংবাদপত্রে লেখা প্রকাশ ও বই প্রকাশের ÿÿত্রে উপর্যুক্তরূপ পূর্বানুমতি গ্রহণ করা প্রয়োজন হইবে না।
(৫) একাডেমির কর্মকর্তা পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করা যাইবে ;
শর্ত থাকে যে, প্রবেশক পর্যায়ে সর্বমোট পদের আশি শতাংশের ও অন্য যে-কোনো পর্যায়ে সর্বমোট পদের ত্রিশ শতাংশের অধিক পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করা যাইবে না ;
আরো শর্ত থাকে যে, প্রবেশক পর্যায় ব্যতিরেকে অন্য পর্যায়ে মহাপরিচালক, প্রয়োজনবোধে, বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কিংবা, উক্তরূপ বিধি ও/বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যমত্ম নির্বাহী পরিষদের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে-কোনো পর্যায়ে মোট শূন্য পদের সর্বোচ্চ পঁচিশ শতাংশ পদের ÿÿত্রে, নিযুক্ত হইবার -বয়সসীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৬) বিশেষ, বা, জরম্নরি প্রয়োজন দেখা দিলে মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিষদের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রতি বেতন-হারে সর্বমোট পদের সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ পদে, বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি দ্বারা, কিংবা, উক্তরূপ বিধি ও/বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যমত্ম, নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে একাডেমির উপপরিচালক পর্যায় পর্যমত্ম কর্মকর্তা ও/বা কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন ;
শর্ত থাকে যে,
(১) উপর্যুক্ত বিশেষ, বা, জরম্নরি প্রয়োজন কী, এবং তাহা কীভাবে ও কী কারণে উদ্ভূত হইয়াছে, মহাপরিচালক তাহা তথ্য ও উপাত্তসহ বিশদভাবে লিখিত আকারে নির্বাহী পরিষদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করিবেন ;
(২) উপর্যুক্তভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তা, বা, কর্মচারীর চাকুরির মেয়াদ একাদিক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না ;
(৩) অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত হইবার কারণে একাডেমির কোনো পদে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হইবার ÿÿত্রে উপর্যুক্তভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তা, বা, কর্মচারীর কোনো অধিকার জন্মাইবে না, কিন্তু তিনি, মহাপরিচালকের বিবেচনায়, যোগ্যতার সহিত তাহার দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে, একাডেমির পদে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হইবার ÿÿত্রে তাহার অভিজ্ঞতা বিবেচিত হইতে পারিবে ;
(৪) একাডেমির পদে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরি যে বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা, কিংবা, উক্তরূপ বিধি ও/বা প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যমত্ম, যেভাবে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধামত্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে, উপর্যুক্তভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তা, বা, কর্মচারীর চাকুরিও উক্ত বিধি ও/বা প্রবিধান দ্বারা, বা, উক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(৭) অন্য আইনে বা বিধিতে যাহাই থাকুক না কেন, (৫) ও (৬) উপধারার অধীনে নিয়োগের ÿÿত্রে নির্বাহী পরিষদ, প্রয়োজনবোধে, বয়সসীমা শিথিল করিতে পারিবে।
৩০। ÿমতা অর্পণ।—
(1) নির্বাহী পরিষদ এই আইনবলে যে ÿমতার অধিকারী, তাহা পরিষদ, প্রয়োজনবোধে সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেÿÿ, মহাপরিচালককে অথবা সচিবকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(2) মহাপরিচালক এই আইনবলে যে ÿমতার অধিকারী, তাহা তিনি, প্রয়োজনবোধে সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেÿÿ, একাডেমির যে-কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
৩১। একাডেমির তহবিল।—
(১) একাডেমির তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নলিখিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :
(ক) সরকারি মঞ্জুরি ;
(খ) সদস্যগণের চাঁদা ;
(গ) বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুদান ;
(ঘ) কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ;
(ঙ) সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আর্ন্তজাতিক/ বিদেশি সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান ;
(চ) একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তকাদির বিক্রয়লদ্ধ অর্থ, দেশের ও দেশের বাহিরে অন্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একাডেমির বইয়ের রয়্যালটি এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ;
(ছ) সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান/ সংস্থার অনুরোধে প্রস্ত্ততকৃত পান্ডুলিপির, ও/বা রচনা ও/বা দলিলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ ;
(জ) বিবিধ আয়।
শর্ত থাকে যে, ৩১(১)(ঘ) এ উল্লিখিত অনুদান বাংলা একাডেমির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হইলে তাহা গ্রহণ করা যাইবে না।
৩২। ঋণ গ্রহণের ÿমতা।—
(১) কর্তৃপÿ, প্রয়োজনবোধে, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের প্রচলিত হারের অনূর্ধহারে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) যে ÿÿত্রে কর্তৃপÿ সরকারের নিকট হইতে অথবা সরকারের জামিনদারিত্বে কোনো ঋণ গ্রহণ করে, সেই ÿÿত্রে উক্ত ঋণের শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
৩৩। বার্ষিক বাজেট বিবরণী।—
একাডেমি, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে সরকারের নিকট হইতে একাডেমির কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, উহার উল্লেখ থাকিবে।
৩৪। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা।—
(১) একাডেমি যথাযথভাবে উহার হিসাব রÿণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীÿক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীÿক নামে অভিহিত, প্রতিবৎসর একাডেমির হিসাব নিরীÿা করিবেন এবং নিরীÿা রিপোর্টের একটি করিয়া কপি সরকার ও একাডেমির নিকট পেশ করিবেন।
(৩) প্রয়োজনবোধে একাডেমি নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত বহির্নিরীক্ষক দ্বারা প্রতি বৎসরে একাডেমির হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা করিবে।
৩৫। প্রতিবেদন।—
প্রতি অর্থ-বৎসর শেষ হইবার একশত আশি দিনের মধ্যে উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণসম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন মহাপরিচালক নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করিবেন।
৩৬। সরকারের দায়িত্ব, ক্ষমতা ইত্যাদি।—
কোনো কারণে অভিযোগ উত্থাপিত হইলে সরকার তদন্ত করিতে পারিবে এবং, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হইলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে এবং প্রযোজ্য ÿÿত্রে একাডেমির মহাপরিচালককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
৩৭। সরল বিশ্বাসে কৃত কর্ম ।—
এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কাজের ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ÿতিগ্রসত্ম হইলে বা ÿতিগ্রসত্ম হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য সভাপতি, সদস্য, মহাপরিচালক, পরিষদের সদস্য বা একাডেমির অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরম্নদ্ধে কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
৩৮। তদন্তের ক্ষমতা।—
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একাডেমির সার্বিক কর্মকান্ড বা কোনো বিশেষ বিষয়ে তদন্ত করিবার জন্য সরকার কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিটি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তদন্তের বিষয়ে উহার প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রদান করিবে, এবং উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনাক্রমে সরকার প্রয়োজনবোধে একাডেমিকে যথাযথ নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
৩৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।—
(1) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমি নির্বাহী পরিষদের নির্দেশনায় বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে এবং উক্ত বিধি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(2) উক্তরূপ বিধি সরকারি অনুমোদনের পর উহা সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশ করিবে।
৪০। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।—
(1) এই আইন ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে একাডেমির নির্বাহী পরিষদ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(2) উক্তরূপ প্রবিধান এই আইন ও এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হইতে পvারবে না।
৪১। রহিতকরণ ও হেফাজত।—
(১) এই আইন জারি হইবার সঙ্গে সঙ্গে Bangla Academy Ordinace, 1978 (Ord. No. XIX of 1978) রহিত হইবে।
(২) উক্ত Ordinance রহিত হওয়া সত্ত্বেও —
(ক) এই আইনের অধীনে নির্বাহী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদ একাডেমির নির্বাহী পরিষদ বলিয়া গণ্য হইবে ;
(খ) বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, তহবিল ও অন্য সকল দাবি ও অধিকার একাডেমিতে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে এবং একাডেমি উহার অধিকারী হইবে;
(গ) বিলুপ্ত হইবার অব্যবহিত পূর্বে Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy-এর যে সকল ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব ছিল, তাহা একাডেমির ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব হইবে ;
(ঘ) বিলুপ্ত হইবার পূর্বে বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল, সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা একাডেমি কর্তৃক বা একাডেমির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে ;
(ঙ) বিলুপ্ত হইবার পূর্বে বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy-এর যেই সব বিভাগ, উপবিভাগ ও পদ ছিল, এই আইন অনুযায়ী পুনর্বিন্যসত্ম না হওয়া পর্যমত্ম সেই সব বিভাগ, উপবিভাগ ও পদ বহাল থাকিবে ;
(চ) বিলুপ্ত হইবার পূর্বে বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy-এর সভাপতি, ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্য যথাক্রমে একাডেমির সভাপতি, ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্য হিসাবে গণ্য হইবে ; এবং
(ছ) কোনো চুক্তি, দলিল বা চাকুরির শর্তে যাহাই থাকুক না কেন, বিলুপ্ত Ordinance-এর অধীনে গঠিত Academy-এর মহাপরিচালক, সচিব, এবং সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী একাডেমিতে স্থানান্তরিত হইবেন এবং তাহারা ক্ষেত্রমতো, সরকার বা একাডেমি কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাহারা এইরূপ স্থানান্তরের পূর্বে যে শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, সরকার বা একাডেমি কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত একই শর্তে একাডেমির চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন।
![]() |
| প্রথম পাতা |