বিভিন্ন কার্যক্রম

           কারিগরি প্রশিক্ষণ

           বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণার পাশাপাশি একটি দক্ষ বাংলা ভাষাভাষী গড়ে তোলার লক্ষেও বাংলা একাডেমী কাজ করে যাচ্ছে। এর সফল বাসত্মবায়ন ঘটেছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার মধ্যে। বাংলা একাডেমীর কারিগরি প্রশিক্ষণ উপবিভাগ ১৯৯২ সালে ১০টি অ্যাপল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটার নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরম্ন করে। একাডেমী থেকে এ পর্যমত্ম ৬০টি ব্যাচে ছয় সহস্রাধিক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন সরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ছাত্র।

     

 

           তরম্নণ লেখক প্রশিক্ষ

    বাংলা একাডেমীর ‘তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ। অনুর্ধ্ব ৩০ বছরের যে-সব প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখক ইতোমধ্যে সাহিত্য ক্ষেত্রে স্বভাবজাত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তাঁদের নিয়মিত ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের সুযোগদান এবং তাঁদের সাহিত্যকর্মের বিশেষ করে আঙ্গিকগত উৎকর্ষ সাধন করার লক্ষে সরকার থেকে ২০০৯­-২০১০ অর্থবছরে ‘তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ব্যয় হয়েছে ৩৪ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। চলতি বছর ২০ জন তরুণ লেখককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এ খাতে ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং দুটি ব্যাচে ৪০ জন তরম্নণ লেখককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

 

বিপণন ও বিক্রয়োন্নয়ন

           বাংলা একাডেমী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। মূলত এর কেন্দ্রীয় বিক্রয়কেন্দ্রই সমসত্ম বিপণনের দায়িত্ব পালন করে। একাডেমীর বই বিক্রির জন্য দেশব্যাপী ৫১জন এজেন্ট রয়েছে। মাসিক উত্তরাধিকার পত্রিকার বিক্রির জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে ৩৫জন এজেন্ট রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন উত্তরাধিকার পত্রিকার বার্ষিক গ্রাহক রয়েছে।

            

           বই বিপণনের লক্ষে বাংলা একাডেমী প্রতিবছর কলকাতা বইমেলা, ঢাকা বইমেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বইমেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বড় শহরে বাংলা একাডেমীর বইমেলার আয়োজন করা হয়। বর্তমানে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শহরগুলোতে বইমেলা করার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।   

          

           বাংলা একাডেমী প্রেস 

              সত্তর ও আশির দশকে বাংলা একাডেমী প্রেস নান্দনিক দক্ষতার বিচারে ঢাকা নগরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেস হিসেবে পরিগণিত হতো। কিন্তু দ্রম্নত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে এ-মর্যাদা পরবর্তী সময়ে ধরে রাখা যায় নি। নববই দশকের শুরম্নতে প্রেসের অফসেট বিভাগে বহুসংখ্যক আধুনিক যন্ত্র ও উপকরণ সংযোগ করা হয়। কিন্তু বিগত দেড় দশকে আর কোনো উলেস্নখযোগ্য উন্নয়ন হয় নি।

             

           প্রেসের উৎপাদন ক্ষমতা আরো বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত আছে। তবে প্রেসকে মানসম্মত রাখার জন্য নতুন ও আধুনিক মুদ্রণ যন্ত্র, বাঁধাই যন্ত্র প্রভৃতির সংযোজন এবং বেশ কিছু যন্ত্রের মেরামত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সেজন্য প্রেসের উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য অফসেট মেশিন ও ফোল্ডিং মেশিন ক্রয়সহ প্রেসের আধুনিকায়নের লক্ষে একটি প্রকল্প প্রসত্মাব সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

        সমন্বয় ও জনসংযোগ

           বাংলা একাডেমীর ভাবমূর্তি নির্মাণ, প্রচার এবং উন্নত করার লক্ষে সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ একাডেমীর বিভিন্ন সংবাদ ও প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলি জনগণকে নিয়মিতভাবে অবহিত করে এবং একাডেমীর বিভিন্ন কার্যক্রমের সংবাদ সকল গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রেরণ করে। এছাড়া বাংলা একাডেমীর মাসিক মুখপত্র ‘বাংলা একাডেমী বার্তা’ একাডেমীর কার্যক্রমের সংবাদসহ দেশ-বিদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংবাদ নিয়ে প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। মাসিক এ পত্রিকা একাডেমীর ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের কাছে ডাকযোগে পাঠানো হয়।

               

 

 

       অন্যান্য কার্যক্রম : বর্তমানে গবেষণা তহবিলের মাধ্যমে যেসব গবেষণা-কাজ চলছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য :

       ফেরদাউস খাতেমন গবেষণা ফান্ড : ফেরদাউস খাতেমন গবেষণা ফান্ড ২০০২ সালে বাংলা একাডেমীতে চালু করা হয়। গবেষণার বিষয় : শিশু-সমীক্ষা, বাংলা ভাষা উন্নয়ন ও শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়। বর্তমানে এই ফান্ডে মুনাফাসহ প্রায় ১৭,৫৩,৫৫৭.০০ (সতের লক্ষ তিপ্পান্ন হাজার পাঁচশত সাতান্ন) টাকা জমা আছে।

 

       মার্কেন্টাইল ব্যাংক গবেষণা ফান্ড : মার্কেন্টাইল ব্যাংক গবেষণা ফান্ড ২০০২ সালে বাংলা একাডেমীতে চালু করা হয়। গবেষণার বিষয় : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়ন। বর্তমানে এই ফান্ডে মুনাফাসহ ২৩,৬৯,৪৩০.০০ (তেইশ লক্ষ ঊনসত্তর হাজার চারশত ত্রিশ) টাকা জমা আছে।

 

       গাজী শামছুর রহমান স্মৃতি গবেষণা তহবিল : গাজী শামছুর রহমান গবেষণা তহবিল ২০০৫ সালে চালু করা হয়। গবেষণার বিষয় : আইন, আইন দর্শন, বাংলা ভাষায় আইনের ব্যবহার, ইসলাম ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় এবং গাজী শামছুর রহমান স্মারক বক্তৃতার আয়োজন ও গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ। বর্তমানে এ তহবিলে মুনাফাসহ ৩০,৩০,৭৯২.০০ (ত্রিশ লক্ষ ত্রিশ হাজার সাতশত বিরানববই) টাকা জমা আছে।

 

       নতুন কার্যক্রম : এছাড়া বাংলা একাডেমী আরো কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে :

১.       ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের জীবন-তথ্য সম্বলিত সচিত্র গ্রন্থ প্রকাশনা।

২.      সাহিত্যকোষ (ব্যঞ্জনবর্ণ অংশ) এবং ফোকলোর কোষ প্রণয়ন ও প্রকাশনা।

৩.      বাংলাদেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রকাশনা।