
গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশন
গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে পান্ডুলিপি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন ধরনের অভিধান প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা একাডেমী বিগত অর্ধশতকে গ্রন্থ প্রকাশনার ভুবনে বিকল্পহীন আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যকে একমাত্র বিবেচ্য না করে বাংলা একাডেমী এমন ধরনের বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ ও সংকলন প্রকাশ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জ্ঞানের জগৎ ঋদ্ধ হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সরকার শুধু পাঠ্যপুসত্মকের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। ফলে গবেষণা ও সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশ বন্ধ ছিল।
উচ্চ শিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুসত্মক প্রণয়ন ও প্রকাশনা (৫ম পর্যায়)
উচ্চ শিক্ষার সকল পর্যায়ের (কারিগরি, প্রযুক্তিবিজ্ঞান, পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়সহ) পাঠ্যপুস্তক ও সহায়ক গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ করে উচ্চ শিক্ষার সকল স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তব সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করাই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। রাজস্ব বাজেটের আওতায় জুলাই ২০০৫ থেকে জুন ২০১০ মেয়াদে ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কর্মসূচি
বাস্তবায়ন করা হয়। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ৪৫ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়। সরকারি বরাদ্দ ও একাডেমীর নিজস্ব ১২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা অর্থায়নে সর্বমোট ৫৭ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৯-২০১০ অর্থবছর পর্যমত্ম সর্বমোট ৩ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৩৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। উলেস্নখ্য, কর্মসূচির প্রণয়ন ব্যয় অর্থাৎ লেখকের রয়্যালটি, অনুবাদকের পারিশ্রমিক ও রিভিউয়ারের সম্মানী একাডেমীর বই বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে নির্বাহ করা হয়।
বর্তমান সরকার বর্ধিত অর্থ বরাদ্দ মঞ্জুর করায় নানা কাজ শুরম্ন হয়েছে :
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান
বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস
বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান
বাংলাদেশ ভূখন্ডের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর কাজে যাঁরা উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবন তথ্য ও কর্মপরিচয় তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ‘বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান’ গ্রন্থটি প্রকাশ করে। সামাজিক ও মানবিকবিদ্যার গবেষকদের তথ্য- চাহিদা পূরণ, সাংবাদিক ও সাধারণ পাঠকদের জ্ঞানস্পৃহা মেটানো এবং নতুন প্রজন্মের নাগরিকদের দেশীয় মনীষার সঙ্গে পরিচয়ের লক্ষে এই গ্রন্থের হালনাগাতকৃত একটি পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলা ও বাঙালি সমাজের কীর্তিমান মানুষের অবদান কালের ধুলোয় হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করাও এ গ্রন্থের মাধ্যমে সম্ভব। ২০১০-১১ অর্থবছরে এ বাবদ ৭.৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন
২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলা একাডেমীর অনুকূলে সরকারের বিশেষ বরাদ্দকৃত ৭৫ লক্ষ টাকা হতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাসত্মবায়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা এবং একাডেমী নিজস্ব তহবিল থেকে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ‘খ্যাতনামা সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবীদের জীবন ও কর্ম বিষয়ক গ্রন্থ রচনা, তাঁদের রচনা সংগ্রহ, বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনা এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন’ শীর্ষক ২০১০-২০১২ মেয়াদে কর্মসূচি প্রসত্মাবে অমত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসূচির মেয়াদ সমাপ্তির পর অনুন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন’ শিরোনামে নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
পত্রিকা
বাংলা একাডেমী থেকে বাংলা একাডেমী পত্রিকা, উত্তরাধিকার, বিজ্ঞান পত্রিকা, দি বাংলা একাডেমী জার্নাল, ধানশালিকের দেশ প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে বাংলা একাডেমী পত্রিকা ২টি, ধানশালিকের দেশ ২টি, উত্তরাধিকার ১০টি ও বাংলা একাডেমী বার্তা ৮টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
উলেস্নখ্য, সৃজনশীল সাহিত্য সৃষ্টিতে সহায়তা, নতুন লেখক সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি সাহিত্যের আলোচনা-পর্যালোচনা এবং বিশেস্নষণ পাঠকের কাছে তুলে ধরার লক্ষেই মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপামত্মরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। বাংলা একাডেমীর প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নবপর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধামত্ম নেয়া হয়েছে এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সাহিত্যের স্বাস্থ্যকর বিকাশ এবং আমাদের চিমত্মা-চেতনার বহুমাত্রিকতা ও সংস্কৃতি রম্নচির ঋদ্ধি, নান্দনিক বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিকতার তীক্ষ্ণতার প্রতিফলনে উত্তরাধিকার সদা সচেষ্ট থাকবে। সেইসঙ্গে এই পত্রিকা যুক্তিবিচার, তর্কতদমত্ম এবং তরম্নণদের উদ্ভাবনাময় দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করবে।
সম্প্রতি নব আঙ্গিকে প্রকাশিত উত্তরাধিকার বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
এছাড়া বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক মুখপত্র লেখা আগস্ট ২০০৯ থেকে ‘বাংলা একাডেমী বার্তা’ নামে প্রকাশ করা হচ্ছে। নতুন আঙ্গিকে বাংলা একাডেমী বার্তা একাডেমীর কার্যক্রমের সংবাদ এবং দেশ-বিদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংবাদসহ প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। মাসিক এ পত্রিকাটি একাডেমীর ফেলো, জীবনসদস্য এবং সদস্যদের কাছে ডাকযোগে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে।
![]() |
| প্রথম পাতা |