বাংলা একাডেমীর বিভিন্ন প্রকল্প

  গবেষণা কার্যক্রম :

                     প্রধানত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন সাধনের লক্ষেই বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়েছেবাংলা একাডেমী বিগত বছরগুলোতে মোটামুটি সফলতার সঙ্গেই সে কাজ করতে পেরেছেএখন যে সব কাজ আমরা শুরম্ন করেছি তা হল :

বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান

              ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, প্রযুক্তিক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে  আমত্মর্জাতিক বিশ্বের  সংযোগের ফলে বাংলা ভাষার বিপুল রূপামত্মরমূলক পরিবর্তন ঘটেছেসময়ের চাহিদা পূরণে অনেক শব্দ বর্জিত হয়েছেঅর্থ সংকোচন এবং অর্থ সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন ঘটেছে অনেক শব্দেরবহু শব্দ লাভ করেছে নতুন ব্যঞ্জনা, নতুন অর্থ

           বাংলা ভাষার বিবর্তনের অভিধান এখন সময়ের দাবিবাংলা অভিধান রচনার ক্ষেত্রে হরিচরণ বন্দোপাধ্যায় ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন দাস যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন এখন তার দ্বিতীয় পর্যায় শুরম্ন হওয়া জরম্নরি

           প্রাক্কলিত ব্যয় : ৩৬৫.০০, মেয়াদ : ২০১০-২০১৩, সংস্কৃতি বান্ধব বর্তমান সরকার বাংলা একাডেমীর এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটিও আমাদের অনুরোধে অনুমোদন করেছেন

 

ভাষা-আন্দোলন জাদুঘর, জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমী আর্কাইভস স্থাপন

           বাংলা একাডেমী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের জীবনী রচনা, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং দেশের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের জাতির কাছে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা এবং প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের দলিলপত্র, রেকর্ডসহ বাংলা বর্ণমালার উৎপত্তি, বিবর্তন, প্রাচীন পুথি ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য ভাষা-আন্দোলন জাদুঘর, জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমী আর্কাইভস স্থাপন শীর্ষক কর্মসূচি ২০১০-২০১২ মেয়াদে ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিতচলতি বছর (২০১০-২০১১) কর্মসূচির সম্প্রসারণ কাজ আরম্ভ করা হয়েছে

           ভাষা-আন্দোলন জাদুঘর : উক্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০০৯-২০১০ সালে ভাষা-আন্দোলন জাদুঘর একাডেমীর ঐতিহ্যবাহী বর্ধমান হাউসের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০ উদ্বোধনের সময় ভাষা-আন্দোলন জাদুঘর উদ্বোধন করেন ভাষা-আন্দোলন জাদুঘরে অমত্মর্ভুক্ত/উপস্থাপিত/প্রদর্শিত বিষয়াদি : ক. ভাষা-আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ৩ (তিন) দিনের ছবি ও লিফলেট, খ. হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থের ডিজিটাইজেশন প্রদর্শন, গ. একুশের এ্যালবাম থেকে ছবি ডিজিটাইজেশন, ঘ. ভাষা-শহীদ ও ভাষা-সংগ্রামীদের পূর্ণ তালিকা, ঙ. সমগ্র বাংলাদেশ এবং বিদেশে অবস্থিত শহীদ মিনারের ছবি ও তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস রচনা, চ. ভাষা-আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস সংরক্ষণ, ছ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/গণপূর্ত বিভাগে সংরক্ষিত ভাস্বর নভেরার মুরালের ছবি ও শিল্পী হামিদুর রহমানের শহীদ মিনারের মূল পরিকল্পনা সংরক্ষণ, জ. একুশের সংকলন, একুশের গানের সংকলন, ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাসসহ ভাষা-আন্দোলন সম্পর্কিত যাবতীয় গ্রন্থ, ঝ. Standard Chartered Bank প্রকাশিত ভাষা-আন্দোলন এ্যালবাম, ঞ. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে প্রদত্ত স্মারকলিপির কপি ও ছবি (যদি পাওয়া যায়) সংরক্ষণ

           জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর : জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘরে অমত্মর্ভুক্ত/উপস্থাপিত/প্রদর্শিত বিষয়াদি : ক. গ্রাফ চিত্রভাষ্যে বাংলা সাহিত্যের উদ্ভব ও বিকাশের রূপরেখা, খ. বাংলা বর্ণমালা ও তার বিবর্তিত রূপ, গ. বরেণ্য লেখক ও শিল্পীদের ছবি, ঘ. লেখক ও শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ঙ. লেখক ও শিল্পীদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, চ. লেখক ও শিল্পীদের প্রকাশিত গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ ইত্যাদি

বাংলা একাডেমী আর্কাইভস :

        ক. বাংলা একাডেমীর পুরনো নথি, একাডেমীতে কর্মরত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত নথি, বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংক্রামত্ম দলিল-দসত্মাবেজ, একাডেমীকে প্রদত্ত গুরম্নত্বপূর্ণ স্মারক উপহার, গুরম্নত্বপূর্ণ প্রকল্পের দলিল, প্রতি বছরের বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদন ইত্যাদি সংরক্ষণ

 

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনা, খ্যাতনামা সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবীদের রচনা সংগ্রহ এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন

           বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনা : জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির গবেষণা, পরিচর্যা ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য খ্যাতনামা সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবীদের জীবন ও কর্ম বিষয়ক গ্রন্থ রচনা, তাঁদের রচনাবলি প্রকাশ এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য

        গৃহীত কার্যক্রম : ক. লেখক জীবনী গ্রন্থমালা, খ. জাতীয় নেতৃবৃন্দের জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ, গ. রচনাবলি, ঘ. সাহিত্য ও ঐতিহ্যমূলক গ্রন্থ, ঙ. অভিধান,
চ. বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনা, ছ. সৃষ্টিশীল ও মননশীল গ্রন্থ,         জ. আঞ্চলিক ও জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন (সার্কভুক্ত দেশসমূহের প্রতিনিধি সমন্বয়ে), ঝ. গবেষাণমূলক গ্রন্থ, ঞ. ফোকলোর সংগ্রহমালা সিরিজ গ্রন্থ,    ট. দেশ-বিদেশের (৫ জন) সৃজনশীল লেখকের সাহিত্যকীর্তি প্রচার (বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়), ঠ. খ্যাতনামা (২০ জন) সাহিত্যিকের জীবন ও কর্মভিত্তিক তথ্যচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, ড. বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক এ্যালবাম, ঢ. বাংলাদেশের সংস্কৃতির/লোকসংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী আমত্মর্জাতিক-মানের গ্রন্থ : (বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়)

              প্রাক্কলিত ব্যয় : ৪১৮.০০ মেয়াদ : ২০১০-২০১২, অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন

 

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ

           বাংলা একাডেমী আশির দশকের শুরুতে বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ রচনার উদ্যোগ নেয়পাঁচ খন্ডে পরিকল্পিত এই ইতিহাস গ্রন্থের প্রথম খন্ড প্রকাশের পর কাজ বন্ধ থাকেবর্তমানে এই কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছেইতোমধ্যে দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয়েছেতৃতীয় খন্ডের কাজ চলছেপ্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

 

 

 দেশজ সংস্কৃতি : বাংলা একাডেমীর লোকজ সংস্কৃতির জরিপ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিকাশ

              গ্রাম-প্রধান বাংলাদেশের সংস্কৃতি মূলত লোকজযুগ যুগ ধরে এদেশের গ্রামীণ জনগণ লোকজ সংস্কৃতিকে নানা প্রক্রিয়ায় ও নানা মাধ্যমে ধারণ ও লালন করে চলেছে বাংলাদেশের বিচিত্র ও বিপুল লোক উপাদানসমূহ দেশের বিভিন্ন জেলা/উপজেলা থেকে খুঁজে বের করা এবং অস্থায়ীভিত্তিতে সংগ্রাহক নিয়োগ করে উক্ত উপকরণসমূহ সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, সংগৃহীত উপাদান গ্রন্থাকারে প্রকাশ, তথ্যচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, অনুষ্ঠান আয়োজন তথা নানা পদ্ধতি/প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের সামনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য

           গৃহীত কার্যক্রম : বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোককবিতা ও লোকসাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপাদানসমূহ খুঁজে বের করা এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উক্ত উপকরণসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশনা

           বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা/উপজেলা থেকে সংগৃহীত উপাদান নিয়ে (অডিও ভিডিও থেকে অনুলিখন) পান্ডুলিপি প্রণয়ন, সম্পাদনা ও গ্রন্থ প্রকাশ
আঞ্চলিক সাহিত্য/সংস্কৃতি ও আমত্মর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন

              প্রাক্কলিত ব্যয় : ৪৬৫.৭০, মেয়াদ : ২০১০-২০১২, অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন

 

 বাংলা একাডেমী ফোকলোর সংগ্রহমালা সিরিজ প্রকাশ

           বাংলা একাডেমী ১৯৫৮ থেকে শুরম্ন করে ১৯৮৩ সাল পর্যমত্ম সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে লোকসাহিত্যের যেসব উপাদান সংগ্রহ করে তা প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে একাডেমীর ফোকলোর আরকাইভসে সংরক্ষিত আছেআরকাইভস্-এ সংরক্ষিত উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে লোককথা, কিংবদমিত্ম, লোকবিশ্বাস, লোকসংঙ্গীত, লোকনাট্য, গীতিকা, পালাগান, কিস্সাগান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, প্রবচন, মন্ত্র ইত্যাদিবাংলা একাডেমী সংগৃহীত ফোকলোর উপকরণসমূহ মুদ্রিত আকারে সংরক্ষিত করা, সংশিস্নষ্ট বিষয়ের গবেষক/পাঠক/অনুরাগী/শিক্ষার্থী প্রমুখের ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়া এবং প্রকাশিত খন্ডগুলোতে (নামকরণ, বিষয় বিন্যাস, মুদ্রণ সৌকর্য, গ্রন্থের আকার, টাইপের ব্যবহার, বাঁধাইয়ের ধরন ইত্যাদি) যেসব অসামঞ্জস্য/অসমতা রয়েছে সেগুলো যথাসম্ভব পরিত্যাগ করে সামঞ্জস্য/সমতা বজায় রেখে যথাযথভাবে বিন্যাস ও পদ্ধতিগতভাবে সম্পাদনা করে পান্ডুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশের লক্ষ প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ খন্ড ফোকলোর সংগ্রহমালা প্রকাশের সিদ্ধামত্ম গৃহীত হয়েছেইতোমধ্যে ফোকলোর সংগ্রহমালা বিভিন্ন শিরোনামে ২৫ খন্ড প্রকাশিত হয়েছেঅবশিষ্টগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে

 

লালন বিষয়ক আমত্মর্জাতিক সেমিনার

           বৈশ্বিক পর্যায়ে লালন চর্চার ধারা পর্যালোচনার জন্য ২৮ ও ২৯শে অগ্রহায়ণ/ ১২ ও ১৩ই ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখ শনিবার ও রবিবার বাংলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষ ফোকলোর উপবিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী লালন বিষয়ক আমত্মর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়প্রথম দিন বিকেলে জাপানে লালন চর্চা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসাহিকো তোগাওয়া এবং লালন তত্ত্বদর্শন শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ভারতের লালন গবেষক ড. শক্তিনাথ ঝাসমাপনী দিন সকালে বাংলাদেশে লালন চর্চা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী এবং বিকেলে লালনের গানের অনুবাদ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ইটালিয়ান বংশোদ্ভূত মুক্তিযোদ্ধা, অনুবাদক ফাদার মারিনো রিগন

           দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের স্মারক উপহার হিসেবে বাংলা একাডেমীর বই এবং ক্রেস্ট দেওয়া হয়দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠান শেষে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া থেকে আগত বাউল শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন

 

মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশনা

           বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ের ইতিহাস আজ নানাভাবে লেখা হচ্ছেমুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রচিত গ্রন্থ ছাড়াও এ বিষয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থএসব গ্রন্থ যাঁরা লিখেছেন তাঁদের অনেকেই পন্ডিত-গবেষক-ইতিহাসবিদএছাড়াও সংগৃহীত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল-দস্তাবেজমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় এসব নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় আঞ্চলিক ইতিহাসের গুরুত্বও স্বীকার্যবাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এদেশের জনসাধারণের ভূমিকাই অধিকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, মজুর, নারী ও মেহনতি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকেলক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মবলিদানের কথা মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাসে রয়েছেএ বিবেচনা থেকেই বাংলাদেশের সাবেক ২১টি জেলার মুক্তিযুদ্ধের তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগৃহীত উপাদান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস প্রণয়ন ও প্রকাশের সিদ্ধামত্ম গ্রহণ করা হয়েছে

           ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এ খাতে ১৩.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এবং ৫টি জেলার গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে


অভিধান প্রকল্প      
   

অভিধান ও কোষগ্রন্থ একটি জাতিকে মননের দৃঢ়তা দেয়তাই জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমী ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অভিধান ও বিভিন্ন ধরনের কোষগ্রন্থ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে

১৯৫৮ সালের প্রথম দিকে আরম্ভ হয় আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’-এর কাজপ্রাচ্যজগতের অন্যতম বিশিষ্ট পণ্ডিত ও ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এই অভিধান সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেনঅভিধানটি তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিলপরবর্তীকালে একখণ্ডে ভিন্ন আকারে এই গ্রন্থের তৃতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়

ব্যবহারিক বাংলা অভিধানসংকলনের কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালেস্বরবর্ণ অংশ প্রকাশিত হয় ১৯৭৪-এসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট পণ্ডিত ও গবেষক ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় এই অভিধানের ব্যঞ্জনবর্ণ অংশ সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন ভাষাবিদ শিবপ্রসন্ন লাহিড়ীবর্তমানে এ অভিধানের ৬ষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে

১৯৮৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর বাংলা একাডেমীর ঊনত্রিশতম প্রতিষ্ঠা দিবসে ছোটদের অভিধানপ্রকাশিত হয়বাংলায় এ ধরনের অভিধান এই প্রথমঅভিধানটি সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন বশীর আল্‌হেলাল, শামসুজ্জামান খান ও সেলিনা হোসেন১৯৯৭ সালে চরিতাভিধানের পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত ও সচিত্র ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছেএ সংস্করণের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন সেলিনা হোসেন এবং নূরুল ইসলাম

১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা উচ্চারণ অভিধানসংকলন ও সম্পাদনা করেন নরেন বিশ্বাস১৯৯৩ সালে অভিধানটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এ অভিধানের ৩য় সংস্করণ

১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় ডক্টর আহমদ শরীফের সম্পাদনায় সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধানএই অভিধান ব্যবহারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে১৯৯৬ সালে প্রকাশিত এ অভিধানের পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত ২য় সংস্করণ বাংলা শব্দভাণ্ডারের সাম্প্রতিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করেড. আহমদ শরীফের সঙ্গে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন শামসুজ্জামান খান, আজহার ইসলাম, আশফাক-উল-আলম, আবদুল হান্‌নান, ঠাকুর, ওবায়দুল ইসলাম, আ.ব.ম. শামসুদ্দীন ও স্বরোচিষ সরকার

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য যে অভিধানটি ১৯৯৩ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয়েছে, সেটি প্রখ্যাত কথাশিল্পী আবু ইসহাক সংকলিত ও সম্পাদিত সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’-এর স্বরবর্ণ অংশ এই অভিধানটির প্রায়োগিক বৈশিষ্ট্য সমকালীন প্রত্যাশার পরিপূরক

বাংলাদেশের অভিধান জগতের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ১৯৯৩ সালের প্রকাশিত "ইথষবলথ অধথনপশী ঊষবলমঢ়ভ-ইপষবথলম উমধয়মসষথড়ী" অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীতাঁকে এ কাজে সহায়তা করেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ অধ্যাপকবৃন্দএ অভিধান সময়োপযোগী একটি আধুনিক শব্দকোষের অভাব পূরণ করেছেতাই সাধারণ মানুষের কাছে এ অভিধানের বিপুল চাহিদাএ পর্যন্ত অভিধানটির ২৭তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে

১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমীর "ইথষবলথ অধথনপশী ঊষবলমঢ়ভ-ইপষবথলম উমধয়মসষথড়ী" এর সম্পাদকমণ্ডলীতে ছিলেন প্রফেরস মোহাম্মদ আলী, প্রফেসর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং ডক্টর জাহাংগীর তারেকইতোমধ্যে অভিধানটির ১৯তম পুনর্মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে

এরপর বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছে আরবী-বাংলা অভিধান (১ম-৩য় খণ্ড, ২য় সংস্করণ), ঐতিহাসিক অভিধানের ২য় সংস্করণ, চরিতাভিধানের ২য় সংস্করণ, নজরুল শব্দকোষের ২য় সংস্করণ, বিজ্ঞান বিশ্বকোষের (১ম-৪র্থ বর্ষ) ২য় সংস্করণ, পালি-বাংলা অভিধানের ২য় খণ্ড, বাংলা-উর্দু অভিধানের ২য় সংস্করণ, বাংলা সাহিত্যকোষের ১ম সংস্করণ, সহজ বাংলা অভিধানের ২য় সংস্করণ, আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধানের ২য় সংস্করণ, সংগীত সাধক অভিধান, "ইথষবলথ অধথনপশী উমধয়মসষথড়ী সফ ডড়ময়পড়ঢ়, ইথষবলথ অধথনপশী চপড়ঢ়স-অড়থদমধ ঊলপশপষয়ঢ় মষ ইপষবথলম, ঊষবলমঢ়ভ ফসড় ইপষবথলম খপথড়ষপড়ঢ় এপঢ় ঊঢ়ঢ়পষয়মথল ঊংপড়ীনথী ইপষবথলম" এর ২য় সংস্করণ
     
   
পুনর্মুদ্রণ প্রকল্প      
   
পাঠ্যপুস্তক, বিশ্বের চিরায়ত সাহিত্য, কিশোর সিরিজ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমী এ পর্যন্ত যে সাড়ে চার হাজারের মতো বই প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে বেশ কিছু বই বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে১৯৯১ সালে বাংলা একাডেমী কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পুনর্মুদ্রণ কোষ গঠিত হয়গোড়া থেকেই এই প্রকল্পের অধীনে পরিকল্পিতভাবে পাঠকের বিপুল চাহিদা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ পুনর্মুদ্রণ করা হয়      
           
     
বাংলা একাডেমীর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ
     
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলা একাডেমী অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেএগুলো হলো- উচ্চ শিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশনা (চতুর্থ পর্যায়), বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন (চতুর্থ পর্যায়), তরুণ লেখক প্রকল্প, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন, বাংলা একাডেমী ভবন নির্মাণ প্রকল্প, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন প্রভৃতিএর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হলো-
       
১. তরুণ লেখক প্রকল্প
২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ
৩. মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন
৪. মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা
৫. বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন
        
তরুণ লেখক প্রকল্প      
   
বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা থেকেই জাতীয় আশা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে ঐতিহ্যভিত্তিক একটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি এবং বাংলা সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে আসছেতরুণ লেখক প্রকল্পসে ধরনেরই একটি উদ্যোগঅনূর্ধ্ব ৩৫ বছরের তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ প্রদান, বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্যের সমকালীন ও চিরায়ত সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাঁদের মানসিক দিগন্ত প্রসারিত ও সুস্থ সাহিত্য সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনসহ সাহিত্যচর্চাকে শৌখিনতার পর্যায় থেকে সার্বক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ পেশায় উন্নীত করার লক্ষ্যে তরুণ লেখকদের আত্মিক বিকাশ, রচনা শৈলীর উৎকর্ষ সাধন এবং গ্রন্থ প্রকাশই ছিল এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থানুকূল্যে, জুলাই ৯৫ থেকে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একজন প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়জুলাই ৯৫ থেকে জুন ৯৭ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের দুটি অর্থবছরে মোট ১৬০জন (প্রতি ব্যাচে ৪০ জন ৬ মাস মেয়াদী) তরুণ লেখককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়প্রথম পর্যায়ের ৪টি ব্যাচের প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ছিল মোট ১৩৯টিগ্রন্থগুলোর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ৫০টি, ছড়া ১১টি, ছোটগল্প ২৩টি, উপন্যাস ২২টি, নাটক ১২টি এবং প্রবগ্রন্থ ২১টিতরুণ লেখক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় জুলাই ৯৭ থেকেদ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথম ব্যাচে ৪০ জন তরুণ লেখককে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়     
   
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ      
   
এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাঙালি জাতির এযাবতকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের জেলাভিত্তিক তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যসমৃদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক ৬৪টি গ্রন্থ, নৌকমান্ডো, বিমানবাহিনী, মুক্তিযুদ্ধে নারী ও শিশুদের অবদান সম্পর্কিত ৪টি গ্রন্থ এবং বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবু শেখ মুজিবুর রহমানের সামগ্রিক জীবনের উপর ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন আলোকচিত্রের ১টি অ্যালবাম প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ( যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারেবর্তমানে প্রকল্পটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নাধীন আছে
     
   
মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন      
   
বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিশেষ করে মুসলিম সাহিত্যিকদের প্রথম এবং প্রধান প্রাণপুরুষ মীর মশাররফ হোসেনের কবর সংলগ্ন ভূমিতে (রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার অন্তর্গত পদমদী গ্রামে) তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জীবন ও কর্মের উপর গবেষণা পরিচালনার সুযোগ সুবিধাসহ স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে

১৯৯৭ সালের ৩০শে অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের প্রি-একনেক সভায় প্রকল্প সারপত্র অনুমোদিত হয়পরবর্তীকালে ২০০০ সালের ২১শে মার্চ প্রকল্প ছক অনুমোদিত হয়১৯শে এপ্রিল ২০০১ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়প্রকল্পের জন্য ২ (দুই) পর্যায়ে সর্বমোট ১.৮৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়গণপূর্ত অধিদপ্তর এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ২০০৪ সালের ৩০শে জুন, ব্যয় হয় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ ৩ হাজার টাকা
   
মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ একটি গ্রন্থাগার রয়েছেএই গ্রন্থাগারে বাংলা একাডেমী প্রকাশিত এক সেট গ্রন্থ রয়েছে গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১৫০০টিগ্রন্থাগারের সঙ্গে একটি পাঠকক্ষ আছেএখানে একসঙ্গে ৪ (চার) জন পাঠক পড়তে পারেনগ্রন্থাগারে জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হয়ক্রমে ক্রমে এই গ্রন্থাগারের বই সংখ্যা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে

স্মৃতিকেন্দ্র চত্বরে মীর মশাররফ হোসেনের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছেএর ফলে উত্তর প্রজন্ম এই মহান সৃষ্টিশীল লেখকের অবয়বের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেএখানে মীর মশাররফ হোসেনের কবর চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি এর সৌন্দর্যবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হয়েছেমাজারে ফেয়ার ফেস ব্যাকওয়াল নির্মাণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক স্থাপনাএকই সঙ্গে মাজারে শ্বেতপাথরের কাজ সৌন্দর্য এবং পবিত্রতা সুনিশ্চিত করেছে ফলে মাজারটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মাঝে আগ্রহ তৈরি করবে

স্মৃতিকেন্দ্রে রয়েছে মীর মশাররফের ব্যবহৃত সামগ্রী এবং দলিলপত্রাদি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য একটি সংগ্রহশালাএটি গবেষক এবং দর্শনার্থীদের এ মহান সাহিত্যিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সুযোগ সৃষ্টি এবং গবেষণাকর্মকে সহজতর করবেগবেষণা ও পরিদর্শনের জন্য আগত অতিথিদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে স্মৃতিকেন্দ্রেবিশেষ অতিথি কক্ষ ছাড়াও একটি সাধারণ অতিথি কক্ষ রয়েছে এখানে

১০০ (একশ) আসন বিশিষ্ট যে সভাকক্ষটি এখানে রয়েছে সেটি সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা এবং সাহিত্য সভা করার উপযোগীতাছাড়া কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধাও এই স্মৃতিকেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কর্মকর্তাবৃন্দ যেন স্মৃতিকেন্দ্র চত্বরে অবস্থান করে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড ও দর্শনার্থীদের সহায়তা দিতে পারেন সে লক্ষ্যেই এ আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়েছে অতিথি ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত ডাইনিং কক্ষ

প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসহ দপ্তর ও সহ-পরিচালকের অফিস কক্ষ রয়েছেরয়েছে স্মৃতিকেন্দ্র পরিদর্শনে আগত দর্শনার্থীদের জন্য অভ্যর্থনা কক্ষএ স্মৃতিকেন্দ্রের কর্মসূচিসমূহ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদে ৮ (আট) জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছেপদসমূহ হচ্ছে- সহপরিচালক, সহগ্রন্থাগারিক, হিসাবরক্ষক, পাঠাগার সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, পরিচারক, এমএলএসএস কাম ঝাড়ুদার এবং নিরাপত্তা প্রহরী
     
   
বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন      
     
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন পায়রাবন্দ গ্রামে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নিজবাড়ি সংলগ্ন ভূমিতে তাঁর সমগ্র জীবনের স্মৃতিসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে গবেষণা এবং নারীদের সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগীকরণে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি লক্ষ্যে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়বর্তমানে এখানে ভূমি উন্নয়নসহ অফিস ভবন, গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিলনায়তন, জনবলের আবাস, দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য অতিথিশালা নির্মাণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে