পহেলা ফেব্রুয়ারি বুধবার শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২। বিকেল ৩টায় গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি মেলা পরিদর্শনে যাবেন এবং বাংলা একাডেমীর নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করবেন। অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্রিটিশ কবি, বিশিষ্ট লেখক, অনুবাদক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক উইলিয়াম র্যাডিচে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
গ্রন্থমেলায় ৪২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসহ সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, সেবামূলক এবং গণমাধ্যম রয়েছে। লিটল ম্যাগাজিনের জন্য থাকবে লিটল ম্যাগ কর্নার। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যাঁরা বই প্রকাশ করেছেন তাঁদের বই বিক্রির জন্য জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের স্টলে রাখা যাবে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বই একাডেমী প্রচলিত ৩০% কমিশনে এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বিক্রি করবে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণকে ভাষা-শহীদ, বরেণ্য লেখক, সাহিত্যিক, কবি ও বুদ্ধিজীবীদের নামে দশটি চত্বরে বিন্যাস করা হয়েছে। চত্বরগুলো হচ্ছে- পাঁচজন ভাষা-শহীদের নামে সালাম, রফিক, জববার, বরকত ও শফিউর চত্বর, রবীন্দ্র চত্বর, নজরুল চত্বর, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চত্বর, বেগম রোকেয়া চত্বর এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত চত্বর। এছাড়া নজরুল মঞ্চের সামনে শিশুকর্নারে থাকবে শিশু-কিশোর বিষয়ক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিবারের মতো এবারেও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে নজরুল মঞ্চে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য তথ্যকেন্দ্র থাকবে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে। সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে গ্রন্থমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তর পার্শ্বে। তাৎক্ষণিকভাবে মেলা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য ফ্যাক্সসহ ই-মেইল সুবিধা থাকবে মিডিয়া সেন্টারে। বাংলালায়ন কমিউনিকেশনস লিমিটেড ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণকে ওয়াইফাই জোনে রূপান্তরিত করবে। এর ফলে মেলায় আগত ল্যাপটপে ব্যবহারকারীরা ফ্রি ব্রাউজিংয়ের সুবিধা পাবেন।
মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ থেকে চ্যানেল আই, বাংলা ভিশন এবং পিপল’স রেডিও মেলার তথ্যাদি প্রতিদিন সরাসরি সম্প্রচার করবে। গ্রন্থমেলার খবরাখবর নিয়ে বিএসবি ও আনন্দ আলো ‘বইমেলা প্রতিদিন’সহ প্রতিদিন বুলেটিন প্রকাশ করবে একাধিক প্রতিষ্ঠান। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে www.banglaacademy.org.bd, www.21gronthomela.com, www.boiwala.com, ও www.bdnews24.com প্রতিদিন মেলার তথ্য প্রচার করবে।
মেলায় প্রবেশের জন্য পুষ্টি ভবনের সামনে এবং আণবিক শক্তি কমিশনের সামনে প্রবেশ পথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশ পথে ২টি করে আর্চওয়ে দিয়ে মেলায় প্রবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ একাডেমীর নিরাপত্তাকর্মীবৃন্দ। পাশাপাশি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে একাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। গ্রন্থমেলা থাকবে সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত।
২রা ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। ভাষা-আন্দোলনের ষাট বছর এবং মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই দুটি বিষয়ে সেমিনারের পাশাপাশি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার নববই বছর, কয়েকজন বিশিষ্ট বাঙালির জন্ম ও সার্ধশতবর্ষ এবং বাংলার বিস্মৃতপ্রায় মনীষার জীবন ও কর্ম নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং গ্রন্থমেলায় সর্বাধিক সংখ্যক মানসম্মত বই প্রকাশের জন্য শ্রেষ্ঠ তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটড-এর আর্থিক সহযোগিতায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আপন কমিউনিকেশনস্ ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে অমর একুশে গ্রন্থমেলার অবকাঠামো নির্মাণ ও সাজসজ্জার যাবতীয় কাজে বাংলা একাডেমীকে সহায়তা প্রদান করছে।
এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমী প্রকাশিত ৩৭টি নতুন বই পাওয়া যাবে।
গ্রন্থমেলার সময়সূচি : গ্রন্থমেলা পহেলা থেকে ২৯শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
২০০২-২০১১ সাল পর্যন্ত মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান ও স্টল বিন্যাসের তুলনামূলক চিত্র
|
সাল |
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান |
১ ইউনিট |
২ ইউনিট |
৩ ইউনিট |
মোট ইউনিট |
|
২০১২ |
৪২৫ |
২৬৬ ´ ১ = ২৬৬ |
১১৩ ´ ২ = ২২৬ |
৪৬ ´ ৩ = ১৩৮ |
৬৩০ |
|
২০১১ |
৩৭৬ |
২৩০ ´ ১ = ২৩০ |
১১২ ´ ২ = ২২৪ |
৩৪ ´ ৩ = ১০২ |
৫৫৬ |
|
২০১০ |
৩৫৬ |
২৩০ ´ ১ = ২৩০ |
১০৩ ´ ২ = ২০৬ |
২৩ ´ ৩ = ৬৯ |
৫০৫ |
|
২০০৯ |
৩২৬ |
২১১ ´ ১ = ২১১ |
৯২ ´ ২ = ১৮৪ |
২৩ ´ ৩ = ৬৯ |
৪৬৪ |
|
২০০৮ |
২৩৬ |
১৩৩ ´ ১ = ১৩৩ |
৮০ ´ ২ = ১৬০ |
২৩ ´ ৩ = ৬৯ |
৩৬২ |
|
২০০৭ |
২৫৫ |
১২৭ ´ ১ = ১২৭ |
১০৮ ´ ২ = ২১৬ |
১৯ ´ ৩ = ৫৭ |
৪০০ |
|
২০০৬ |
৩১৭ |
১৭৮ ´ ১ = ১৭৮ |
১১৮ ´ ২ = ২৩৬ |
২১ ´ ৩ = ৬৩ |
৪৭৭ |
|
২০০৫ |
৩১৮ |
১৮৯ ´ ১ = ১৮৯ |
১১২ ´ ২ = ২২৪ |
১৭ ´ ৩ = ৫১ |
৪৬৪ |
|
২০০৪ |
৩১২ |
১৭৯ ´ ১ = ১৭৯ |
১১৮ ´ ২ = ২৩৬ |
১৪ ´ ৩ = ৪২ |
৪৫৭ |
|
২০০৩ |
২৬৭ |
১৪৭ ´ ১ = ১৪৭ |
১০৪ ´ ২ = ২০৮ |
১৫ ´ ৩ = ৪৫ |
৪০০ |
|
২০০২ |
২৪০ |
১৪৩ ´ ১ = ১৪৩ |
৮৩ ´ ২ = ১৬৬ |
১৫ ´ ৩ = ৪৫ |
৩৫৭ |