Press News 11.02.2012
- 02.02.12 -
সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমী
ঢাকা ১০০০ ফোন : ৮৬১৯৫৮০ ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com, bacademy1955@yahoo.com ওয়েব সাইট : www.banglaacademy.org.bd
পত্র সংখ্যা : তারিখ : ১১.০২.২০১২
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২
আজ ২৯শে মাঘ/১১ই ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০:৩০টায় আয়োজিত শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে ১০৭জন এবং উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিচিতি, বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, বাংলাদেশের ভূগোল, বাংলাদেশের সাহিত্য, বাংলাদেশের ষড়ঋতু, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, বাংলাদেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে ২৮জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার বিচার কার্য সম্পাদন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, ড. মোহাম্মদ সেলিম এবং এভারেস্টবিজয়ী মুসা ইব্রাহিম। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল প্রতিযোগিকে স্মারক পুরস্কার হিসেবে বাংলা একাডেমী প্রকাশনা প্রদান করা হয়। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯:০০টায় প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার।
সকাল ১১:০০টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘একুশের সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাহবুবুল হক। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা-সচিব কবি কামাল চৌধুরী, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান ও অধ্যাপক সৌভিক রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী।
সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনলাইনের সরাসরি সম্প্রচারের উদ্দেশ্যে বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করা হয় গ্রন্থমেলা সম্প্রচার কার্যক্রম। এর ফলে মেলায় প্রতিদিন আসা নতুন বই, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, লেখক-প্রকাশকসহ সব রকমের তথ্য বাংলা একাডেমীর ওয়েবসাইট www.banglaacademy.org.bd-তে পাওয়া যাবে। এছাড়াও মেলার মূলমঞ্চের সকল অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এই ওয়েব থেকেই। অনলাইন সম্প্রচারে বাংলা একাডেমী সহায়তা করছে ‘রেডিও সিটি’ (www.radiocity.com.bd) এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ‘প্রফেশনালস সিস্টেমস’। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান সম্প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২-এর সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমীর পরিচালক শাহিদা খাতুন, সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগের উপপরিচালক মুর্শিদ আনোয়ার, শিক্ষা-বিশেষজ্ঞ ম. হাবিবুর রহমান, প্রফেশনালস সিস্টেমস্-এর প্রধান নির্বাহী হাসিব রহমান, ব্যবসা ও জনসংযোগ ব্যবস্থাপক মাসুক ই কিবরিয়া, রেডিও সিটি’র পক্ষে ছিলেন স্টেশন ম্যানেজার শিকদার ডায়মন্ড এবং আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, অমর একুশের প্রভাব আমাদের সাহিত্যে বিভিন্ন মাত্রায় রূপায়িত হয়েছে। শুধু সাময়িক প্রসঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্যে বিধৃত হয়নি চিরকালীন ব্যঞ্জনায়ও এর অভিষেক ঘটেছে। আরোপিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ হিসেবে নয়, শিল্পের শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করেই একুশের সাহিত্য হয়ে উঠে বৃহত্তর বাংলা সাহিত্যের অচ্ছেদ্য অংশ। একুশের অঙ্গীকার আমাদের লেখক-শিল্পীরা দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন বলেই পশ্চাৎপদ পাকিস্তানি আদর্শের বিপরীতে সেই ষাটের দশকেই বাংলাদেশের সাহিত্য আধুনিকতার ছোঁয়া লাভ করে। কূপমন্ডুকতার বিপরীতে আমাদের এভাবে আমাদের সাহিত্য হয়ে একুশের চেতনাদীপ্ত মানবিক শিল্পকলা। আমাদের প্রবীণ ও তরুণ লেখক-শিল্পীরা একুশকে তাঁদের সাহিত্যের উপজীব্য করেছেন, একুশ থেকে সম্মুখযাত্রার প্রণোদনাও পেয়েছেন। একুশের চেতনা আমাদের সাহিত্যের পরিসর বৃদ্ধি করেছে। সমৃদ্ধ করেছে এর অন্তর্গত সৌষ্ঠব।
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আয়োজিত ‘প্রবাসে একুশে উদ্যাপন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি সাইফুল্লাহ্ মাহমুদ দুলাল। আলোচনায় অংশ নেন জার্মান প্রবাসী লেখক সুলতানা আজিম, ব্রিটেন প্রবাসী লেখক ইসহাক কাজল ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গোলাম মোস্তফা এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।
প্রাবন্ধিক বলেন, একুশের সুর আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে-দেশে প্রবাসী বাঙালিরা গড়ে তুলছে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতীক শহীদ মিনার। পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালি লেখকেরা তাঁদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে চলেছেন মূলধারার বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, প্রবাসী বাঙালিরা ভিনদেশে বসে নির্মাণ করে চলেছেন স্বদেশের প্রতিরূপ। প্রবাসে বেড়ে ওঠা উত্তর-প্রজন্মকে নিজ দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সন্ধান দিতে হলে প্রথমে বাঁচিয়ে রাখতে হবে বাংলা ভাষার চর্চাকে। তাই প্রবাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলা ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আশু পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি বলেন, ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ না-হলে আজ বিশ্বব্যাপী বাংলার এই বিপুল বিকাশ সম্ভব ছিল না। সাহিত্য-সংস্কৃতির একমাত্রিকতা কোনোভাবেই আমাদের কাম্য নয়। তাই বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে বৈশ্বিক সংযোগকে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ এর মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হবে আন্তর্জাতিকতাবাদী শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন বলয়। তিনি বলেন, সরকার অতি শীঘ্র নিউ ইয়র্ক, লন্ডন ও কলকাতায় দুটি সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করছে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপক চর্চায়। তবে এই ধারাবাহিকতা পরবর্তী প্রজন্মের প্রবাসীদের ভেতরে বহমান থাকবে কি-না সেটা ভাববার বিষয়। তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যের ভাষা বাংলার উল্লেখযোগ্য কীর্তিগুলো কেবল যোগ্য অনুবাদের অভাবে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছতে পারছে না। এ-বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী অনুপ ভট্টাচার্য, বুলবুল মহলানবীশ, শাম্মী আখতার, রুমানা ইসলাম, মোখলেসুর রহমান নীলু, হাসান মাহমুদ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন নূরুল ইসলাম পলাশ, সাইদুজ্জামান রীড, শাকিল মোহাম্মদ দীপন, কাজী জুবায়ের কায়সার এবং মোঃ শাহরিয়ার কবির।
আজকের নতুন বই :
গল্প-২৮, উপন্যাস-২৯, প্রবন্ধ-১২, কবিতা-৩৭, গবেষণা-২, ছড়া-৬, শিশুতোষ-৬, জীবনী/স্মৃতিচারণ-৬, ভাষা-আন্দোলন/মুক্তিযুদ্ধ-৬, নাটক-২, বিজ্ঞান/গণিত-২, ভ্রমণ-৪, ইতিহাস-১, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য-১, কম্পিউটার-১, রম্য/ধাঁধা-৭, অনুবাদ-৪, অন্যান্য-৩২, মোট-১৮৬।
আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি \ ৩০.১০.১৪১৮/১২.০২.২০১২ \ রবিবার
বিকেল ৪:০০ : আলোচনা অনুষ্ঠান : ভাষা-আন্দোলন, বাঙালি জাতিসত্তার উদ্ভব ও জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা
প্রাবন্ধিক : জাকির তালুকদার
আলোচক : সৈয়দ আনোয়ার হোসেন \ এম. এম. আকাশ \ পূরবী বসু \ মনতোষ কুমার দে
সভাপতি : কবি সৈয়দ শামসুল হক
সন্ধ্যায় : সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
(মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ)
উপপরিচালক